বিধবাবিবাহ : বিদ্যাসাগর বনাম সমকালীন রক্ষণশীল হিন্দুসমাজ
Keywords:
- বিদ্যাসাগর,
- রক্ষণশীল হিন্দুসমাজ,
- বিধবাবিবাহের বিরোধিতা,
- আইন,
- বিধবাবিবাহের প্রচলন
Abstract
সমাজে নারীর স্থান ছিল অন্তঃপুরে, শিক্ষার আলো থেকে নারীকে অনেক দূরে অবস্থান করতে হত। নারী সধবা হোক আর বিধবা হোক তাকে সমাজ নির্ধারিত আইনের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকতে হত। কিন্তু কোনও সধবা মেয়ের বয়স আট-ই হোক আর আশিই হোক তার জীবনে যদি বৈধ্যব্যের অভিশাপ নেমে আসে, তখন সেই বিধবা নারীর সতী হয়ে ওঠার জন্য স্বামীর জ্বলন্ত চিতায় তার দেহত্যাগ রক্ষণশীল সমাজ নির্ধারিত একটি বড়ো রীতি ছিল। রামমোহন রায় আইনের দ্বারা বিধবা নারীকে স্বামীর জ্বলন্ত চিতায় ঝাঁপিয়ে পড়া থেকে রক্ষা করলেন। স্বামীর মৃত্যুর পরে বিধবাদের সমাজে বেঁচে থাকা একটি কঠিন পরীক্ষার মতো হয়ে দেখা দেয়। অনেকে বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন, কারণ- তারা কেউই বিধবাবিবাহের প্রচলনের পক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ রক্ষণশীল সমাজের সামনে উপস্থাপন করতে পারেননই। ঠিক তখনই বিদ্যাসাগর সমাজের বিধবাদের রক্ষার জন্য তাদের বিবাহের কথা ভাবেন এবং আইন করে বিধবাবিবাহের প্রবর্তনও করেন। তিনি বেদ, স্মৃতি ও পুরাণের বিশ্লেষণ করে দেখান কোথাও বিধবাবিবাহের বিরোধিতা করা হয়নি। কিন্তু রক্ষণশীল সমাজের প্রধান যুক্তি - বিধবাবিবাহ দেশাচার-বিরুদ্ধ; বিধবাবিবাহের প্রচলন হলে সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে বিবাদ-বিসংবাদের ফলে বংশলোপ হওয়ার সম্ভাবনা আছে এবং পারিবারিক বিপর্যয়ও দেখা দিতে পারে। বিধবাবিবাহের ফলে হিন্দুরা যে কেবল ধর্মচ্যুত ও আচারভ্রষ্ট হবে তাই নয়, ধনেপ্রাণেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু বিদ্যাসাগরের নানান যুক্তির কাছে রক্ষণশীল মানুষের যুক্তি টিকতে পারেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত সমাজে বিধবাবিবাহের প্রচলন হয়েছে।
Downloads
References
১. দত্ত, তীর্থপতি, বিদ্যাসাগর রচনাবলী: প্রথমখণ্ড রাজসংস্করণ, তুলি-কলম, ১কলেজ রো, কলকাতা-৯, তৃতীয় সংস্করণ: বৈশাখ ১৪০৪, পৃ. ৬৯৬
২. পূর্বোক্ত, পৃ. ৬৯৭
৩. পূর্বোক্ত, পৃ. ৬৯৯
৪. পূর্বোক্ত, পৃ. ৭০৫

