অদ্বৈত মল্লবর্মণ : তাঁর অর্থনৈতিক দারিদ্র চিন্তার একটি ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ
Keywords:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ,
- অর্থনৈতিক দারিদ্র ভাবনা,
- ঔপনিবেশিক বাংলা,
- ভারত ও বর্হিভারত,
- নিম্নবর্ণীয় সমাজ,
- মালো সম্প্রদায়,
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত
Abstract
বিংশ শতাব্দীতে ভারতের ইতিহাস এবং আর্ন্তজাতিক ইতিহাস বহুল ঘটনাপূর্ণ। এই শতকেই দুই বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮ ও ১৯৩৯-১৯৪৫) ও অর্থনৈতিক মহামন্দা (১৯২৯) দেখা দিয়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বর্ষেই সাহিত্যিক অদ্বৈত মল্লবর্মণের (১৯১৪-১৯৫১) আর্বিভাব নিম্নবর্ণীয় নিম্নবৃত্ত মালো পরিবারে। তাঁর জীবদশায় বহু প্রবন্ধ, ছোট গল্প, উপন্যাস ও কবিতা রচনা করেছেন। যদিও অদ্বৈতের রচনা সম্ভার প্রাথমিক পর্বে বেশি আলোচিত হয়নি। মূলত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাস অদ্বৈতকে অমরত্ব দান করেছে আলোচ্য প্রবন্ধে উপন্যাস ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ছোটগল্প ‘স্পর্শদোষ’, কবিতা ‘ত্রিপুরা লক্ষী’, প্রবন্ধ ‘ভাইফৌটার গান’ এবং ‘রুগ্ন অবস্থায় লেখা চিঠি’ প্রভৃতি অদ্বৈতের সাহিত্যিক সৃষ্টি গুলোকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাঁর রচিত রচনা গুলির অর্থনৈতিক দারিদ্র ভাবনাকে সূক্ষাতি সূক্ষ ভাবে আলোচনা করা হয়েছে। যেমন ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসে প্রধানত মালো সম্প্রদায়ের নদী ভিত্তিক স্বল্প উপর্জনের কথা ব্যক্ত করেছেন। ‘স্পর্শদোষ’ নামক গল্পে বাংলার পল্লীর গৃহবধূর অভাব অনটনের কথা আলোচনা করেছেন। ‘ত্রিপুরা লক্ষী’ কবিতাতে ঔপনিবেশিক বাংলার মন্বন্তরের ইতিহাসের কাহিনিকে তুলে ধরেছেন। ‘ভাই ফোঁটার গান’ প্রবন্ধে বাংলা তথা ভারতের পৌরানিক কাহিনির আর্থিক অভাবের ভাবনাকে সামাজিক আর্থিক অভাবের প্রতিচ্ছবি বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর রচিত অপ্রকাশিত ‘আশালতার মৃত্যু’ গল্পটিও খুবই মর্মস্পর্শী। সেখানে আর্থিক অভাব সম্পর্কে ঔপনিবেশিক সরকারের উদাসিনতাকে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি তাঁর রচনা সমুহে ঔপনিবেশিক বাংলা, ভারতবর্ষ এবং ভারতের বাইরের আর্থিক সংকটের ইতিহাসকে সাহিত্যে বর্ণনা করেছেন। পঞ্চাশের মন্বন্তরের (১৩৫০ বঙ্গাব্দ) ফলে অর্থনৈতিক সংকটকেও তুলে ধরেছেন। এছাড়া কুমিল্লার মালো সমাজের আর্থিক অনগ্রসরতার ইতিহাসকে তিনি বর্ণনা করেছেন। অদ্বৈতের লেখলী প্রধানত নিম্নবর্নীয় তথা নিম্নবর্গীয় সমাজের প্রান্তিক আর্থিক দিক থেকে অসহায় মানুষের কথা ব্যক্ত করেছেন।
Downloads
References
১. মাইতি, ড. প্রদ্যোত কুমার : ইতিহাস পরিক্রমা, মাইতি পাবলিকেশন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২০১১, পৃ. ১৯
২. বর্মণ, রূপ কুমার : ‘হ্যাঁ নিম্নবর্গীয়রা লিখতে পারে’, বাংলা জর্নাল, কানাডা, খণ্ড-২১, ১৪২২, পৃ. ৫৭
৩. বিশ্বাস, অচিন্ত (সম্পাদিত) : ‘অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচনা সমগ্র’, দে’জ পাবলিশিং, কলকাতা, ২০০০, পৃ. viii
৪. মল্লবর্মণ, অদ্বৈত : ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, দে’জ পাবলিশিং, কলকাতা, ২০১৩, পৃ. ২০
৫. তদেব : পৃ. ১২৬
৬. তদেব : পৃ. ১৪২ - ১৪৩
৭. তদেব : পৃ. ১৪৮
৮. মল্লবর্মণ, অদ্বৈত : প্রাগুক্ত, পৃ. ১৭৪
৯. বিশ্বাস, অচিন্ত (সম্পাদিত) : প্রাগুক্ত, পৃ. ২০
১০. তদেব : পৃ. ২০
১১. বিশ্বাস, অচিন্ত (সম্পাদিত) : প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৪
১২. তদেব : পৃ. ৩৪
১৩. তদেব : পৃ. ১০০
১৪. তদেব : পৃ. ১৩৪
১৫. বিশ্বাস, মনোহরমৌলি : ‘অদ্বৈত মল্লবর্মণ, অতীতের পত্র-পত্রিকার পৃষ্ঠা খুঁজে, চতুর্থ দুনিয়া, কলকাতা, ১৯৯৪ ডিসেম্বর, পৃ. ৩৯
১৬. তদেব : পৃ. ৩৯
১৭. বর্মণ, রূপ কুমার : প্রাগুক্ত, পৃ. ৫৮
১৮. বিশ্বাস, মনোহর মৌলি : প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৯
১৯. ভট্টাচার্্য্য, তপোধীর : ‘অদ্বৈত মল্লবর্মণ’, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাদেমি, কলকাতা, ২০০০, পৃ. ৫০
২০. বিশ্বাস, অচিন্ত (সম্পাদিত) : তদেব, পৃ. ৫৬৫
২১. মল্লবর্মণ, অদ্বৈত : ‘আশালতার মৃত্যু’, পুনর্মূদ্রন ভাসমান-১০, অদ্বৈত মল্লবর্মণ এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি, কলকাতা, ২০০৩, পৃ. ১-৮
২২. তদেব, পৃ. ৪

