বাংলা মঙ্গলকাব্যে বৌদ্ধধর্মের বিকাশ ও সাহিত্যে তার প্রতিফলন

Authors

  • LIPIKA BISWAS গবেষক, তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় Author

Keywords:

  • Mangal Kavya,
  • Buddhist Literature,
  • Arya Goddess,
  • Loukik Goddess,
  • Buddhist Goddess,
  • Brahminism,
  • Buddha Dharma

Abstract

Although there were no early influences of Buddhism in Bangladesh, the influence of this religion increased by the Pala kingdom. Tolerant of all Indian religions, opposed to caste and casteism system, this religion called all people under their broad umbrella. As a result, the whole common people of Bengal began to accept Buddhism more dearly. Brahmanism was patronized by the aristocracy and remained confined to the upper society. On the other hand, the populist trend of Buddhism dominated the vast masses of Bangladesh and this religion was able to harmonize with the secular religion. These gods and goddesses, who have the joint idols of secularism and Buddhism, they were enshrined in the Aryan nobility and once a time established in the Brahmanical temple. Because of this recognition of folk life, Brahmanism paved the way for its self-expansion. Brahminism combined with Buddhist-influenced secularism and the Mangalkavyas emerged as a literature of this combination. Bangladesh also had good relations with Java during the time of King Devpal of the Pala dynasty. The sculptures found in Java testify to that, such as Shiva Buddha, Vishnu Buddha etc. Charyapada is a book written by the laymen of Tantric Buddhism. Buddhists are also known for their skill in writing logic, medicine, astrology, grammar-dictionaries etc. During this period, there was an improvement in various fields of literature. South India's controversial victor Shilabhadra was a student of Professor Baiakaran Chandragomi, who was taught at Nalanda University. Chandragomi wrote Chandravakarana. Buddhists are known for their skill in writing such as Amar kosha. The Kosh has three organelle stages, like Anga, Anekarrtha and the linga. Many knowledge can be found around these three. Various questions have been raised about this ‘Hindu-Buddhist’ doctrine. At the end of the 19th century, Harprasad Shastri was called the culture of Bengal a ‘Pracchanna Bouddha Sanskriti’. His doctrine created a great stir in the history of Bengali literature and culture. In the history of ancient Bengal, the history of Bengali glory that has been written during the period of expansion of Buddhism in Bengal.  

Downloads

Download data is not yet available.

References

১. ভট্টাচার্য, শ্রী আশুতোষ (২০০০), বাংলা মঙ্গলকাব্যের ইতিহাস, কলকাতা, এ. মুখার্জী অ্যান্ড কোং প্রাইভেট লিমিটেড, পৃ. ১১

২. ষোড়শ মহাজনপদ : মহাজন শব্দের অর্থ হল বিশাল সাম্রাজ্য। বৌদ্ধ গ্রন্থে বেশ কয়েকবার এই নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। বৌদ্ধ গ্রন্থ অঙ্গুত্তরানিকয়া মহাবস্তুতে ১৬টি মহাজনপদের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা বৌদ্ধ ধর্মের বিস্তারের পূর্বে ভারতের উত্তর-উত্তর পশ্চিমাংশে উত্থিত এবং বিস্তৃত হয়। এই ১৬ টি দেশ হল- অবন্তী, অস্মক, অঙ্গ, কম্বোজ, কাশী, কুরু, কোশল, গান্ধার, চেদি, বজ্জি বা বৃ্জি, বৎস, পাঞ্চাল, মগধ, মৎস্য বা মচ্ছ, মল্ল, শূরসেন। যাদের নিয়েই তৈরি হয়েছিল ষোড়শ মহাজনপদ।

সূত্র : চক্রবর্তী, রজনীকান্ত (২০০৯), গৌড়ের ইতিহাস, প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড একত্রে, কলিকাতা : দে’জ পাবলিশিং, পৃ. ৫০

৩. তেলপত্ত জাতক: তেলপত্ত জাতক হল জাতক সংখ্যা ৯৬। যেখানে বোধিসত্ত্ব বারাণসীরাজ ব্রহ্মদত্তের শতপুত্রের মধ্যে একজন হয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর যৌবনাবস্থায় প্রত্যেকবুদ্ধগণ রাজভবনে ভোজনের জন্য এলে বোধিসত্ত্ব তাঁদের দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তিনি একদিন তাঁদের প্রণাম জানিয়ে নিজের রাজা হওয়ার বাসনার কথা জানান। তখন তাঁরা তাকে উপদেশ দেন যে, উক্ত রাজ্যের দ্বিসহস্র যোজন দূরে অবস্থানকারী গান্ধার রাজ্যে সাত দিনের মধ্যে পৌঁছাতে পারলেই বোধিসত্ত্ব রাজা হতে পারবেন। তাঁর যাত্রাপথে ছিল ভয়ঙ্কর যক্ষিণীদের আনাগোনা ও প্রাণনাশের সম্ভাবনা। তাসত্ত্বেও বোধিসত্ত্ব প্রত্যেকবুদ্ধগণের আশীর্বাদ নিয়ে রওনা হন। বন পথে বিপদ এলেও ইন্দ্রিয়দমন করে যক্ষিণীদের হাত থেকে নিস্তার পান। তাঁর এই সংযম দেখে গান্ধারবাসীরা তাকে তক্ষশীলার রাজার পদে বরণ করে নিয়েছিলেন।

সূত্র : মুখার্জী, বন্দনা (২০০৪ – ২০০৫) ভট্টাচার্য, বেলা (সম্পাদিত), বৌদ্ধকোষ, পঞ্চম খণ্ড, কলকাতা : পালি বিভাগ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, পৃ. ৬৪৯

৪. অঙ্গুত্তরনিকা : পালি সুত্তপিটকের অন্তর্গত চতুর্থ নিকায় বা সূত্রসংগ্রহের নাম অঙ্গুরত্তরনিকায়। এই নিকায়ের মধ্যে আনুমানিক মোট ২৩০৮টি সূত্র রয়েছে। এছাড়াও গ্রন্থটি এগারটি নিপাত বা পরিচ্ছেদে বিভক্ত এবং প্রত্যেকটি নিপাত আবার কয়েকটি বর্গে বিভক্ত। নিপাতগুলিকে ঊর্ধ্বক্রমসংখ্যায় বিন্যস্ত করা হয়েছে। এই নিকায়গুলির মধ্যে সমাজের বিবিধ বিষয়গুলিকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেমন –

ক) একনিপাত যেখানে রয়েছে তথাগতের কথা, স্বামী-স্ত্রীর কথা, নির্বাণলাভের কথা ইত্যাদি বিষয় গুলি।

খ) দুকনিপাত যেখানে রয়েছে দুরকম বুদ্ধ, দুই প্রকার বনবাসের ও দুই প্রকার দানের বর্ণনা এছারাও অন্যান্য বিষয়ের কথাও এখানে উল্লেখিত রয়েছে।

গ) তিকনিপাত এই তিন সংখ্যা যুক্ত নিপাতে রয়েছে তিন প্রকার পাপকর্ম, তিন প্রকার দেবতার দূতের বর্ণনা ইত্যাদি।

ঘ) চতুক্কনিপাত এখানে রয়েছে পাপসঞ্চয়ের চার কারণ, ধর্মবিনয় থেকে বিমুক্তির চার বর্ণনা ইত্যাদি।

ঙ) পঞ্চকনিপাত যেখানে রয়েছে শৈক্ষের নির্বাণলাভের পাঁচটি বল, পাঁচটি নীবরণ ও ইত্যাদি।

চ) ছক্কনিপাত এই ছয় সংখ্যায় থাকবে ভিক্ষুর ছয়টি পালনীয় ধর্মের কথা, ছয়টি উচ্চতম বিষয়ের কথা ইত্যাদি।

ছ) সত্তকনিপাত এই সাত সংখ্যার নিপাতে সাত প্রকার শ্রদ্ধা, শীল ও ধনের বর্ণনা রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য কিছু বিষয়ও এখানে স্থান পেয়েছে।

জ) অটঠকনিপাত এই আট সংখ্যার নিপাতে রয়েছে আট প্রকার বন্ধন, আট প্রকার দান ইত্যাদি।

ঝ) নবকনিপাত এখানে রয়েছে নয় প্রকার ব্যক্তি, নয় প্রকার সংজ্ঞা ও চিন্তার কথা ও ইত্যাদি বিষয়।

ঞ) দসকনিপাত এই দশ সংখ্যার বিষয়ে রয়েছে দশ প্রকার বুদ্ধি, ধর্মের দশ মুলত্তত্ব ইত্যাদি বিষয়গুলি।

ট) একাদসকনিপাত এই সংখ্যায় রয়েছে নির্বাণে পৌঁছাবার এগারটি পথের বর্ণনা, আসব জ্ঞান লাভের জন্য এগারটি গুরুধর্ম বর্ণনা ও ইত্যাদি বিষয় গুলি।

সূত্র: ভট্টাচার্য, বেলা (সম্পাদিত) চৌধুরী, বিনয়েন্দ্র (১৯৮৫- ৮৬), বৌদ্ধকোষ, প্রথম খণ্ড, কলকাতা: পালি বিভাগ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, পৃ. ৫-৭

৫. দাশ, আশা (১৯৬৯), বাংলা সাহিত্যে বৌদ্ধধর্ম ও সংস্কৃতি, কলকাতা: ক্যালকাটা বুক হাউস, পৃ. ৬

৬. দাশগুপ্ত, নলিনিনাথ (১৩৫৫), বাঙ্গালায় বৌদ্ধধর্ম, কলকাতা : এ. মুখার্জী, পৃ. ৪০

৭. পুণ্ড্রবর্ধন: ঋগবেদে পুণ্ড্ররাজ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রাচীন তাম্রশাসনেও পুণ্ড্রদেশের রাজধানী এই পুণ্ড্রবর্ধন নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। চীনা পর্যটক গঙ্গা থেকে পুণ্ড্রবর্ধন নগরের দূরত্ব দেখান ১০০ মাইল। তার বর্ণনায় উক্ত অঞ্চলের নাম ছিল–পু-ন্ন–ফ-ত-ন্ন। এই রাজ্যের কোন রাজার নাম জানা যায়নি। তাই অনুমান করা যায় এই রাজ্যটিও হর্ষবর্ধনের রাজত্বের অধীনেই ছিল।

সূত্র: চক্রবর্তী, রজনীকান্ত (২০০৯), গৌড়ের ইতিহাস, প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড একত্রে, কলিকাতা : দে’জ পাবলিশিং, পৃ. ৪৫

৮. সমতট: বঙ্গদেশের আরেক নাম হল সমতট। হিউয়েন সাং এর বর্ণনা থেকে এই রাজ্যের আয়তন সম্পর্কে জানা যায়। এখানে জলবায়ু ছিল প্রীতিকর, শস্য উৎপাদনের জন্য ভূমি ছিল উর্বর। এখানে মোট ত্রিশটি সঙ্ঘারাম ছিল যেখানে ২ হাজার ব্রাহ্মণ বাস করতেন। রাজ্যে ১০০ টির মতো দেবমন্দির ছিল। এখানে হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয় ধর্মেরই প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।

সূত্র: চক্রবর্তী, রজনীকান্ত (২০০৯), গৌড়ের ইতিহাস, প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড একত্রে, কলিকাতা: দে’জ পাবলিশিং, পৃ. ৩৫

৯. মহাপ্রজ্ঞাপারমিতা সূত্র: কিছু মহাযান সূত্র রয়েছে যেগুলিতে মহাযান দৃষ্টিভঙ্গীর বৌদ্ধধর্মতত্ত্বের দার্শনিক পর্যালোচনা। এই গ্রন্থের মধ্যে– দান, শীল, ক্ষান্তি, বীর্য, সমাধি ও প্রজ্ঞা এই বিষয়গুলি আলোচনা করা হয়। তবে এখানে প্রজ্ঞা বা জ্ঞানের পরিপূর্ণতার আলোচনা এখানে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। প্রজ্ঞা হল শূন্যতা জ্ঞান অর্থাৎ সমগ্র জাগতিক বস্তু এবং ধর্মের আপেক্ষিক অস্তিত্ব ও নৈরাত্ম্য সম্পর্কে জ্ঞান। এই গ্রন্থে ভগবান বুদ্ধ তাঁর শিষয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। মহাপ্রজ্ঞাপারমিতা সূত্র ছিল প্রজ্ঞাপারমিতা গ্রন্থাবলির একটি বিশ্বকোষতুল্য সংকলন। এই গ্রন্থটি নাগার্জুনের রচনা বলে কথিত। হিউয়েন সাং ও তাঁর সহকারীরা এই গ্রন্থকে চীনা ভাষায় অনুবাদ করেন। এই বইটি পঞ্চবিংশতিসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতাসূত্র নামেও পরিচিত।

সূত্র : চৌধুরী, বিনয়েন্দ্র নাথ (২০১৪) চৌধুরী, সুকোমল (সম্পাদিত), বৌদ্ধ সাহিত্য, বুদ্ধ ও বৌদ্ধধর্ম সিরিজ– গ্রন্থমালা ৩, কলকাতা : মহাবোধি, পৃ. ২২৬-২২৯

১০. চক্রবর্তী, রজনীকান্ত (২০০৯), গৌড়ের ইতিহাস, প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড একত্রে, কলকাতা : দ্বেজ, পৃ. ৬৮

১১. ক্ষান্তি বা খন্তি : এই খান্তিবাদি জাতকের সংখ্যা ৩১৩। এখানে শাস্তা জেতবনে অবস্থান করেছিলেন। লোকে গাল দিলে বা প্রহার করলে যে কোন শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করলেও মানুষের মনের যে অক্রুদ্ধভাব, তার নাম খান্তি। বোধিসত্ত্ব রাজাকে এই সংজ্ঞা দিয়েছেন খান্তির। অর্থাৎ অপরের দ্বারা পীড়নেও যখন মানুষের বিকার হয়না তখন সেই অবস্থাকে বলা হয় খান্তি।

সূত্র : বড়ুয়া, শুভ্রা (২০০০- ২০০১) ভট্টাচার্য, বেলা (সম্পাদিত), বৌদ্ধকোষ, চতুর্থ খণ্ড, কলকাতাঃ পালি বিভাগ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, পৃ. ৪২৩

১২. চট্টোপাধ্যায়, নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ (সম্পাদিত) (১৩৬৬)। জয়দেবের গীত গোবিন্দম্। কলকাতা: দেব প্রেস। পৃ. ৩৫।

১৩. দশমহাবিদ্যা: শক্তিদেবতার বহুদিন মূর্তির মধ্যে দশ মহাবিদ্যা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। কোন কোন অর্বাচীন পুরাণে ও তন্ত্রে দশমহাবিদ্যার রূপ বর্ণিত হয়েছে। দশমহাবিদ্যার উদ্ভব সম্পর্কে একটি কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। যথা – দক্ষযজ্ঞে শিব – সতী নিমন্ত্রিত না হওয়া সত্ত্বেও পিতার যজ্ঞে উপস্থিত হওয়ার ঐকান্তিক ইচ্ছায় পতির নিকট বাধাপ্রাপ্ত হলে শিবের অনুমিত আদায়ের উদ্দেশ্য সতী শিবকে দশটি ভয়ংকরী মূর্তি দেখিয়েছিলেন। দেবীর এই দশটি রূপ দশমহাবিদ্যা নামে পরিচিত। এই রূপগুলি হল – কালী, তারা, ত্রিপুরসুন্দরী, ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলামুখী, মাতঙ্গী, কমলাকামিনী।

সূত্র: ভট্টাচার্য্য, হংসনারায়ণ (১৯৯৭), হিন্দুদের দেবদেবী উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ, তৃতীয় পর্ব, কলকাতা : ফার্মা কে এল এম (প্রাইভেট) লিমিটেড, পৃ. ২৬৫

১৪. বোধিসত্ত্ব : ‘বোধি’ শব্দের অর্থ হল জ্ঞান বা প্রজ্ঞা, আবার সত্ত্ব শব্দের অর্থ হল প্রাণী। বোধিসত্ত্ব শব্দের একত্রে অর্থ হল প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি। এই ব্যক্তি পৃথিবীর শুধু নিজের দুঃখ নিবারণ করে সন্তুষ্টি পায়না, তিনি সমগ্র দেব-মানবসমাজকে ভব দুঃখ থেকে উদ্ধার করতে নিজের কাছেই সংকল্পবদ্ধ থাকেন। বুদ্ধতলাভের জন্য কোন সম্যক-সম্বুদ্ধের কাছে প্রার্থনা করতে হয়, এই প্রার্থনাকারী ব্যক্তি আটটি গুণের অধিকারী হতে হয়। যেমন –

ক) মানবজন্ম লাভ করতে হবে, অন্য কোন প্রানী রূপে প্রার্থনা করলে তা পূর্ণ হয় না।

খ) পুরুষ হয়ে জন্মাতে হবে। স্ত্রী নপুংসক হলে হবে না।

গ) অর্হত্ব লাভের জন্য উপযুক্ত পুণ্যরূপ হেতু থাকতে হবে।

ঘ) বুদ্ধের দর্শন পেতে হবে। তাঁর সামনে প্রার্থনা করতে হবে।

ঙ) প্রার্থনাকারীকে সংসারত্যাগী প্রব্রজিত হতে হবে।

চ) তাঁকে পঞ্চ অভিজ্ঞা ও অষ্ট সমাপত্তি হতে হবে।

ছ) বুদ্ধত্বলাভের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ - এই ত্যাগের শক্তিতেই তাঁর প্রার্থনা পূর্ণ হবে।

জ) তাঁকে বুদ্ধকারক ধর্ম দশপারমী পূরণের মহান প্রচেষ্টা রাখতে হবে।

উক্ত অষ্টগুণ সম্পন্ন ব্যক্তি সম্যক সম্বুদ্ধের থেকে বুদ্ধ হওয়ার ভবিষ্যৎবাণী শুনলেই ব্যক্তির কার্যসিদ্ধি হবে, তিনি বোধিসত্ত্ব নাম পাবেন। ত্রিপিটক গ্রন্থে বুদ্ধত্বলাভের পূর্বে সিদ্ধার্থ গৌতমকে, তাঁর পূর্বজন্মের বিশ্লেষণ করে তাঁকে বোধিসত্ত্ব বলে অভিহিত করা হয়েছে।

সূত্র : বড়ুয়া, শুভ্রা (২০০০- ২০০১) ভট্টাচার্য, বেলা (সম্পাদিত), বৌদ্ধকোষ, ষষ্ঠ খণ্ড, কলকাতা : পালি বিভাগ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, পৃ. ৮৪৫-৮৪৭

১৫. ত্রিপিটক : বৌদ্ধধর্মশাস্ত্রের অনেক বিভাগ রয়েছে, কিন্তু সমগ্র বৌদ্ধসাহিত্যের নাম ত্রিপিটক, বৌদ্ধদের মতে বুদ্ধের বচনগুলি এই গ্রন্থে গ্রথিত রয়েছে। এই গ্রন্থটি তিনটি ভাগে বিভক্ত যথা– ক) বিনয় পিটক, খ) সুত্ত পিটক ও গ) অভিধর্ম পিটক। এদের মধ্যে বিনয় পিটকই শ্রেষ্ঠ। পিটক শব্দের অর্থ পেটিকা বা ঝুড়ি। কথিত আছে বুদ্ধের মৃত্যুর পরে প্রথম মহাসংগীতির সময়ে (৪০০ খ্রিস্ট.পূর্ব.) রাজগৃহে আগত শিষ্যরা, আবৃত্তির মধ্য দিয়ে বুদ্ধবচনগুলি সংগ্রহ ও সংস্থাপন করেন। তখনও পর্যন্ত দ্বিপিটক ছিল। তৃ্তীয় মহাসংগীতির (২৫০ খ্রিস্ট.পূর্ব.) সময়ে এই ত্রিপিটকের প্রথম সংকলন হয়। ত্রিপিটকের লক্ষ হল ত্রিবিধ।

সূত্র: মুখার্জী, বন্দনা (২০০৪- ২০০৫) ভট্টাচার্য, বেলা (সম্পাদিত), বৌদ্ধকোষ, পঞ্চম খণ্ড, কলকাতা : পালি বিভাগ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, পৃ. ৬৩৮-৬৩৯

১৬. দশপারমিতা : দুঃখমুক্তির পারে উত্তীর্ণ হওয়ার যে চর্যা, যে সাধনা, যে সৎকর্মাদির অনুষ্ঠান তাকেই বলে পারমিতা বা পারমী (পালি শব্দ পারমী)। গৌতম বুদ্ধ বুদ্ধত্ব লাভের পূর্বে জন্ম-জন্মান্তর ধরে যে সমস্ত সৎকর্ম করেছেন তাদেরকে একসঙ্গে পারমিতা বলা হয়। বৌদ্ধধর্মের প্রাথমিক অবস্থায় ১০ প্রকার পারমিতার উল্লেখ পাওয়া যায়। যথা –

ক) দান, খ) শীল, গ) নৈষ্কাম্য, ঘ) সত্য, ঙ) ক্ষান্তি, চ) বীর্য, ছ) অধিষ্ঠান, জ) মৈত্রী, ঝ) উপেক্ষা, ঞ) প্রজ্ঞা

উক্ত দশটি কর্মকেই পরবর্তীতে মহাযানে ৬ টি পারমিতার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সূত্র : চৌধুরী, সুকোমল (সম্পাদিত) (২০১৪), গৌতম বুদ্ধের ধর্ম ও দর্শন, কলকাতা : মহাবোধি বুক এজেন্সী, পৃ. ৩৯২-৩৯৫

১৭. মৈত্রেয় বুদ্ধ : মেত্তেয়্য বুদ্ধ বা মৈত্রেয় বুদ্ধ হলেন ভবিষ্যৎ বুদ্ধ। ‘চক্কবত্তিসীহনাদ সুত্ত’ মতে যখন মানব সভ্যতার আশি বছর পার হয়ে যাবে, তখন তাঁর জন্ম হবে কেতুমতী নগরে বা বারাণসীতে। সেখানকার রাজা প্রাসাদ ত্যাগ করে, মৈত্রেয় বুদ্ধের শিষ্যত্ব গ্রহণ করবেন। এই মেত্তেয়্য বুদ্ধ বিখ্যাত ব্রাহ্মণ বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মেত্তেয়্য হল তাঁর গোত্রের নাম।

সূত্র : চ্যাটার্জী, জয়ন্তী (২০০৭) ভট্টাচার্য, বেলা (সম্পাদিত), বৌদ্ধকোষ, ষষ্ঠ খণ্ড, কলকাতা : পালি বিভাগ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, পৃ. ৯০৯

১৮. দাশ, আশা (১৯৬৯), বাংলা সাহিত্যে বৌদ্ধধর্ম ও সংস্কৃতি, কলকাতা : ক্যালকাটা বুক হাউস, পৃ. ৩

১৯. শাস্ত্রী, হরপ্রসাদ (২০০১), হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচনা সংগ্রহ, তৃ্তীয় খণ্ড, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ, পৃ. ৪৮৯

২০. হীনযান: বৌদ্ধধর্ম বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজনের সময়ে মূলত বৈভাষিক, সৌত্রান্তিক, মাধ্যমিক ও যোগাচার এই চারটি দল একত্রিত হয়ে প্রধান দুটি দলে বিভক্ত হয়ে, নাম পায় মহাযান ও হীনযান। হীনযান এই প্রধান সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈভাষিক ও সৌত্রান্তিক উক্ত দুই দলের মিশ্রণ ঘটে। এই থেরবাদীরা নিজেদের প্রাচীন সম্প্রদায় বলে মনে করেন। এই থেরবাদীদের সাহিত্যে দশপারমিতার উল্লেখ পাওয়া যায়। এদের প্রধান আদর্শ অর্হত্ত্বলাভ করা।

সূত্র : চৌধুরী, সুকোমল (সম্পাদিত) হালদার (দে), মণিকুন্তলা (২০১০), বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস, কলকাতা : মহাবোধি বুক এজেন্সী, পৃ. ২০৯-২১৫

২১. মহাযান : মূল বৌদ্ধ সম্প্রদায় হীনযান থেকেই মহাযান সম্প্রদায়ের উৎপত্তি হয়েছে। দ্বিতীয় মহাসংগীতির (খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩৪) সময় কিছু ভিক্ষু নিজস্ব উদারপন্থী ভাবনাকে সামনে টানতে গিয়ে দল থেকে বিতারিত হয়ে, যে নতুন দল তৈরি করে যার নাম হল মহাযান। এদের মূল আদর্শ হল বুদ্ধত্বলাভ করা। এই মতাবলম্বীরা চান জগতের প্রতিটি মানুষের হিতের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করতে। বোধিসত্ত্বলাভ করতেও এই মতাবলম্বীরা আগ্রহী হন। হীনযানদের এই মতবাদীদের মত কিছুটা ভিন্ন হয়ে ধরা পড়েছিল।

সূত্র : হালদার (দে), মণিকুন্তলা (২০১০) চৌধুরী, সুকোমল (সম্পাদিত), বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস, কলকাতা : মহাবোধি বুক এজেন্সী, পৃ. ২০৯-২১৫

২২. মাধ্যমিক: মহাযান সম্প্রদায় প্রধান দুটি দলে বিভক্ত হয়ে যায়, যথা মাধ্যমিক ও যোগাচার। এই মাধ্যমিক সম্প্রদায় নাগার্জুনের মধ্যমকশাস্ত্র কে অবলম্বন করে গড়ে উঠেছিল। এদের কাছে ‘শূন্যতা’ মুখ্যরূপ ভূমিকা পালন করেছিল। নাগার্জুন তাঁর গ্রন্থে কারিকার সাহায্যে শূন্যের উপস্থাপন করেন। বুদ্ধের মধ্যমপন্থা কে সামনে রেখে শূন্যের দর্শনকে জনসমক্ষে আনা হয়েছিল। তাঁদের মতে সংসার, নির্বাণ ও শূন্যতা এই তিন একই সূত্রে বাঁধা। তাঁরা আরও বলেন- অস্তি-নাস্তি, আত্মা-অনাত্মা, নিত্য-অনিত্য এগুলিকে দিয়ে মধ্যমপন্থাকে বিচার করা সম্ভব নয়। তাঁদের কাছে পরমার্থ শব্দটিই শূন্যতার সমতুল্য।

সূত্র : হালদার (দে), মণিকুন্তলা (২০১০) চৌধুরী, সুকোমল (সম্পাদিত), বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস, কলকাতা : মহাবোধি বুক এজেন্সী, পৃ. ২০৫-২০৭

২৩. যোগাচার: নালন্দা বিহারে নাগার্জুন যখন অধ্যক্ষ ছিলেন, তখন তাঁর একদল অনুগামীদের মনে প্রশ্নের উদয় হয়, যা ঘিরে পরবর্তীতে বিবাদ হয় ও নতুন দলের উদ্ভব হয়। এই নতুন দলটি যোগাচার সম্প্রদায় বা বিজ্ঞানবাদ নামে পরিচিত। কথিত আছে এই দলের প্রতিষ্ঠাতা মৈত্রেয়নাথ, যার শিষ্য ছিলেন অসংগ। এই মতাবলম্বীরা বোধিলাভের জন্য যোগমার্গকে বেছে নিয়েছিলেন। অসংগের লিখিত দুটি গ্রন্থ হল – সূত্রালংকার ও বোধিসত্ত্বভূমি। উক্ত গ্রন্থ দুটিতে বোধিজ্ঞান লাভের স্তরগুলির বর্ণনা করা হয়েছে। এই সম্প্রদায়ীরা মনে করেন তাঁদের কথিত ১০টি সাধনমার্গের স্তর অতিক্রম করলেই বোধিসত্ত্ব লাভ করা যাবে।

সূত্র : হালদার (দে), মণিকুন্তলা (২০১০) চৌধুরী, সুকোমল (সম্পাদিত), বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস, কলকাতা : মহাবোধি বুক এজেন্সী, পৃ. ২০৭-২০৯

২৪. মন্ত্রযান: মন্ত্রকে আশ্রয় করে সাধনার যে পথ গড়ে উঠেছিল তা মন্ত্রযান নামে পরিচিত। বৌদ্ধধর্মের অন্যান্য শাখার মতো এই শাখাটিও মনুষ্যত্বের বিকাশ, উৎকর্ষতা ও আধ্যাত্মিকতার সাহায্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে চেয়েছিল। মন্ত্রতন্ত্রযুক্ত তান্ত্রিকতা প্রাচীনযুগ থেকেই ভারতবর্ষে অস্তিত্ববজায় রেখেছিল, এই শাখাটি বৌদ্ধধর্মের সঙ্গে মিশে গিয়ে একটি গূঢ় রহস্যময় বৌদ্ধধর্মের জন্ম দিয়েছিল। মন্ত্রের সঙ্গে মুদ্রার গভীর মিল রয়েছে, হাতের আঙ্গুল ও চিহ্নের সাহায্যে মুদ্রাগুলি দেখানো হত। মন্ত্রতন্ত্রগুলির শব্দের গোপনীয়তার সঙ্গে শারীরিক সংস্পর্শের ব্যাপারটিও এখানে এসে যেত।

সূত্র : হালদার (দে), মণিকুন্তলা (২০১০) চৌধুরী, সুকোমল (সম্পাদিত), বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস, কলকাতা : মহাবোধি বুক এজেন্সী, পৃ. ২২১-২২৫

২৫. সহজযান: তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের ক্ষেত্রে ‘সহজ’ শব্দের অর্থ হল মহাসুখ। বজ্রযানের একটি শাখা হল সহজযান। পালরাজাদের সময়ে এই ধর্ম বিস্তৃতি লাভ করেছিল। এখানে করুণা হল পুরুষ, শূন্যতা হল প্রকৃতি। শূন্যতা ও করুণার মিলনে উৎপাদন হয় বোধিচিত্ত যা নারী ও পুরুষের মিলিত যোগমার্গের এক অনির্বচনীয় অবস্থা, যা নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মহাসুখ’। এই সম্প্রদায়ের তত্ত্বের দিকগুলি জনসাধারণের কাছে জটিল বলে মনে হয়েছিল, তাই সমকালীন মানুষেরা এই শাখার ধ্যানধারণা, মন্ত্রতন্ত্র ও মুদ্রাধারণের রীতিগুলিতে বেশি করে আকৃষ্ট হয়ে, এগুলিকেই বুদ্ধত্বলাভের প্রকৃষ্টউপায় বলে মনে করেন। বৌদ্ধসহজিয়ারা প্রচার করেন যে ভগবান বুদ্ধ স্বয়ং স্ত্রী গোপার সঙ্গে সহজ সাধনায় লিপ্ত হয়েছিলেন। চর্যাপদে (১৯০৭) উত্থিত যে – লুইপাদ, সরহপাদ, কাহ্নপাদ প্রমুখ ব্যক্তিরা এই সহজযান সাধনার সাধক ছিলেন।

সূত্র : হালদার (দে), মণিকুন্তলা (২০১০) চৌধুরী, সুকোমল (সম্পাদিত), বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস, কলকাতা : মহাবোধি বুক এজেন্সী, পৃ. ২২৮-২৩৪

২৬. প্রজ্ঞাপারমিতা: মহাযান সম্প্রদায়ের বর্ণিত পারমিতার ষষ্ঠ স্থান অধিকারী পারমিতা হল এই প্রজ্ঞা পারমিতা। আবার প্রাথমিক বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পারমিতার দশম স্থান অধিকার করে আছে এই প্রজ্ঞা পারমিতা। তবে প্রথমের ভাবনা থেকে পরবর্তীতে এই পারমিতার কিছুটা ভাবগত পরিবর্তন হয়েছে। প্রথমে প্রজ্ঞা বলতে বোঝাতো বুদ্ধি-তীক্ষ্ণতা ও প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব। বোধিসত্ত্ব প্রজ্ঞা পারমিতা – র অভ্যাস করেছিলেন। এই পারমিতার দ্বারা বিপশ্যনা প্রাপ্তি হয়। তিনি বুঝতে পারেন যে সংসার অনিত্য, দুঃখ ও অনাত্মতায় পরিপূর্ণ। জাতক সংখ্যা ৪০২ এ প্রজ্ঞা পারমিতা সম্পর্কিত গল্পটি উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র : চৌধুরী, সুকোমল (সম্পাদিত) (২০১৪), গৌতম বুদ্ধের ধর্ম ও দর্শন, কলকাতা : মহাবোধি বুক এজেন্সী, পৃ. ৩৯২-৪০৩

২৭. দাশ, আশা (১৯৬৯), বাংলা সাহিত্যে বৌদ্ধধর্ম ও সংস্কৃতি, কলকাতা : ক্যালকাটা বুক হাউস, পৃ. ১৩

২৮. শাস্ত্রী, হরপ্রসাদ (২০০১), হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচনা সংগ্রহ, তৃ্তীয় খণ্ড, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ, পৃ. ৫৮৩

২৯. শাস্ত্রী, হরপ্রসাদ (১৩৫৮), হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা, কলকাতা : মহাবোধি বুক এজেন্সী, পৃ. ১০৩

৩০. সেন, সুকুমার (১৯৭০), বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, প্রথম খণ্ড পূর্বার্ধ, কলকাতা : ইস্টার্ন পাবলিশার্স, পৃ. ৬৪

৩১. চক্রবর্তী, রজনীকান্ত (২০০৯), গৌড়ের ইতিহাস, প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড একত্রে, কলকাতা : দ্বেজ, পৃ. ২৭

৩২. সেন, শ্রীদীনেশ চন্দ্র (১৩৪১), বৃহৎ বঙ্গ, প্রথম খণ্ড, কলকাতাঃ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, পৃ. ২৪৮

৩৩. ভট্টাচার্য্য, হংসনারায়ণ (১৯৯৭), হিন্দুদের দেবদেবী উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ, তৃতীয় পর্ব, কলকাতা : ফার্মা কে এল এম (প্রাইভেট) লিমিটেড, পৃ. ৩২

Downloads

Published

2023-01-26

Issue

Section

Articles

How to Cite

বাংলা মঙ্গলকাব্যে বৌদ্ধধর্মের বিকাশ ও সাহিত্যে তার প্রতিফলন. (2023). TRISANGAM INTERNATIONAL REFEREED JOURNAL, 3(1), 17 – 32. https://tirj.org.in/tirj/article/view/1057