‘এপার গঙ্গা ওপার গঙ্গা’ : দাঙ্গার এক অনালোকিত ইতিকথা
Keywords:
- শাসক,
- শাসিত,
- বিদ্বেষের বীজ,
- পরাধীন ভারত,
- দাঙ্গা
Abstract
যে কোনো শাসকই শাসিতের ওপর আধিপত্য বিস্তার করার জন্যে নানা কূটকৌশল অবলম্বন করে। পরাধীন ভারতের শাসক ইংরেজরাও এর ব্যতিক্রম নয়। তারা সর্বদা চেষ্টা করত হিন্দু-মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের জাল ছড়িয়ে দিতে। ফলে এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি ব্যাপক দূরত্ব তৈরি হয়। আর এই দূরত্বই ফাটলের আকার ধারণ করে ১৯৪৬-১৯৪৭ সালে। ১৯৪৬ সালে দেশে যে দাঙ্গার উত্থান ঘটে তাতে দুই সম্প্রদায়ের মানুষেরই প্রাণহানি ঘটে। ঘর-বাড়ি ধ্বংসও, সম্পত্তি লুণ্ঠন, জন্মভূমি ছেড়ে পলায়ন, খুন ও আর্ত মানুষের চিৎকারে সেদিন ভারি ভারি হয়ে উঠেছিল ভারতের আকাশবাতাস। বলা বাহুল্য এই রাষ্ট্রিক ও মানবিক সংকটকালে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হয় নারীরা। কত নারী যে সেদিন ধর্ষিত হয়েছিল তার সঠিক হিসেব জানা নেই। কেউ আবার সম্মান রক্ষার্থে কুয়োয় পর্যন্ত ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিল। এই সংকটকালে চুপ করে থাকেননি সংবেদনশীল সাহিত্যিকরা। তাঁদের লেখনী হতে একে একে উঠে আসে বহুবিচিত্র বেদনাতুর আখ্যান। ঔপন্যাসিক জ্যোতির্ময়ী দেবী এই সংবেদনশীল লেখকদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর ‘এপার গঙ্গা ওপার গঙ্গা’ উপন্যাসটিও দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নির্মিত। তবে তিনি এখানে আমাদেরকে দাঙ্গার এক অনালোকিত ইতিকথার দৃশ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। খুন, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, প্রাণে বাঁচার তাগিদে স্বদেশ ছেড়ে পলায়ন কিংবা জন্মভূমিকে আঁকড়ে ধরেই বাঁচতে চাওয়া ইত্যাদি দিকগুলি নিয়ে অসংখ্য গল্প-উপন্যাস নির্মিত হয়েছিল এবং হচ্ছেও। কিন্তু দাঙ্গাকালে যে মেয়েটি হিন্দু কিংবা মুসলিম পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল, দাঙ্গা শেষে সেই মেয়েটি কি তার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পেরেছিল? যদি সে ফিরে না যায় সেক্ষেত্রে তার কী পরিণতি হয়? আর যদি বা তাকে তার পরিবারের লোকজন ফিরিয়ে নেয় তবে সেখানে কতটা আন্তরিকতা ছিল? নাকি তাকে আবার নির্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়? দাঙ্গার এই অনালোচিত দিকটিই এই নিবন্ধে বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতিতে আলোচিত হয়েছে।
Downloads
References
১. দে, সুধাংশুশেখর (প্রকাশক) : জ্যোতির্ময়ী দেবীর রচনা-সংকলন, দে’জ পাবলিশিং, কলকাতা, তৃতীয় সংস্করন-এপ্রিল ২০১১, পৃ. ৫
২. তদেব, পৃ. ৯৬
৩. তদেব, পৃ. ৯৩
৪. তদেব, পৃ. ৬
৫. তদেব, পৃ. ১৪২
৬. তদেব, পৃ. ১২০
৭. তদেব, পৃ. ১২৪
৮. তদেব, পৃ. ১২৫
৯. তদেব, পৃ. ১২৭
১০. তদেব, পৃ. ১৮১
১১. তদেব
১২. তদেব, পৃ. ১২৯
১৩. তদেব, পৃ. ১৪২
১৪. তদেব, পৃ. ১৫২ - ১৫৩
১৫. তদেব, পৃ. ১৮৯
১৬. তদেব, পৃ. ১৮৭

