পুলিশি ডিটেকশনের কালো দিক : সাহিত্যে থার্ড ডিগ্রির নজির

Authors

  • SOUVIK MUKHOPADHYAY শৌভিক মুখোপাধ্যায় Author

Keywords:

  • Detection,
  • Police,
  • Crime,
  • Nineteenth Century,
  • Bengal,
  • Crime Fiction

Abstract

Crime is an Eternal Phenomena underlying beneath human civilization. It develops around human interest. It changes according to the evolution of society, culture and norms. As the civilization grows the relation between crime and punishment leads to a complex equation. But to punish anyone for a particular criminal act we need to detect his/her involvement in that crime at first. Police are the administrative instrument for that work. The first authority to conduct any legal investigation. Police may be get a confession from a suspect under police custody for a crime and according to all the evidence they prepare a charge sheet and produce him/her to the court for final punishment. To collect all that evidences they must get a clue or some important information to go through with the investigation. Born criminals are hard to crack. They are not willing to confess anything that goes against them. For this there are so many unique methods invented to break them. But sometimes it could be fatal for the suspect. There are not any fix rule or manuals for applying these and couple of baneful occasion it becomes a black mark on police administration.

In this article we are trying to find such examples and explore what are the possible reason behind this rigorous methodology? Are any worthy aspect or specific criminological background present against its defence?

We used several bengali article, novel and memoirs from nineteenth and twentieth century’s bengali literature to collect necessary proofs in respect of this article.      

Downloads

Download data is not yet available.

References

১. বসু, গিরিশচন্দ্র, সেকালের দারোগার কাহিনী, দুষ্প্রাপ্য সাহিত্য সংগ্রহ ৩, সম্পাদনা : কাঞ্চন বসু, কলকাতা, রিফ্লেক্ট পাবলিকেশন, সপ্তম মুদ্রণ : ফেব্রুয়ারি ২০০৪, পৃ. ২৭১

২. তদেব, পৃ. ২৭৫

৩. “ছোট একটা মকর্দমার তদন্ত সারিয়া—তিনদিন ক্রমান্বয়ে গো-শকটে আসিয়া বাসায় পৌঁছিয়াছি, সহকর্মীর দয়ার শরীর—কুশল জিজ্ঞাসার পূর্বেই জানাইয়া দিলেন, শ্রীযুক্ত কর্তা সাহেব বড় চটিয়াছেন। ঘড়ি ঘড়ি সংবাদ লইতেছেন। সর্বাঙ্গে দারুণ বেদনা, নিদ্রায় চক্ষু ভাঙিয়া পড়িতেছে, শরীর ক্রমেই অবসন্ন হইয়া আসিতেছে;--বিশ্রাম করিবার অবসর পাইলাম না। তাঁবুতে গিয়া সেলাম দিয়া দাঁড়াইলাম। সাহেব, মেমসাহেবের সহিত এতক্ষণ বেশ রঙ্গরহস্য করিতেছিলেন—মুখভরা হাসি ছিল; আমাকে দেখিয়াই গম্ভীর। বামপদের টক্করে কেদারাখানা দূরে ফেলিয়া দিয়া, সাহেব একেবারে আমার আধহাত তফাতে আসিয়া হাজির। খুব রাগ প্রকাশের ভঙ্গিতে বড়সাহেব বলিলেন,’তোমার কি ইয়াদ নাই? এই ছোট ছোট মকর্দমার তদন্তে এত বিলম্ব। বড়ই দোষের কথা। সাবধান হও। ওই ডাইরি দেখ।–আজই রওনা হও। একমাস সময়, ঠিক গণা ত্রিশটি দিনের ভিতর তদন্ত শেষ করা চাই।’”

হারানী। বাঁকাউল্লার দপ্তর, সম্পাদনা : সৌম্যেন পাল, প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত, কলকাতা : চর্চাপদ, জানুয়ারি, ২০১৩্‌ পৃ. ৮৬

৪. মিয়াজান দারোগার একরারনামা, অনুবাদ : অরিন্দম দাশগুপ্ত, কলকাতা: চর্চাপদ, প্রথম বাংলা সংস্করণ : জুন ২০০৯, পৃ ১১৭

৫. বসু, গিরিশচন্দ্র, সেকালের দারোগার কাহিনী, দুষ্প্রাপ্য সাহিত্য সংগ্রহ ৩, সম্পাদনা : কাঞ্চন বসু, কলকাতা : রিফ্লেক্ট পাবলিকেশন, সপ্তম মুদ্রণ : ফেব্রুয়ারি ২০০৪, পৃ. ২৮৯

৬. তদেব

৭. মিয়াজান দারোগার একরারনামা, অনুবাদ : অরিন্দম দাশগুপ্ত, কলকাতা : চর্চাপদ, প্রথম বাংলা সংস্করণ : জুন ২০০৯, পৃ. ১১৬ - ১১৭

৮. নিয়োগী, রুণু গুহ, সাদা আমি কালো আমি, ২য় খণ্ড, কলকাতা : এম.এল.দে. এণ্ড কোং, দ্বিতীয় প্রকাশ : কলিকাতা পুস্তকমেলা, ২০০১, পৃ. ১৭ - ১৮

৯. মিয়াজান দারোগার একরারনামা, অনুবাদ : অরিন্দম দাশগুপ্ত, কলকাতা : চর্চাপদ, প্রথম বাংলা সংস্করণ : জুন ২০০৯, পৃ. ১১৬

১০. তদেব, পৃ. ১১৭ - ১১৮

১১. তদেব, পৃ. ১১৮

১২.তদেব

১৩. “তুড়ুম জিনিসটা কি, তাহা বোধ হয় আমার পাঠকগণের মধ্যে অনেকে জানেন না। তুড়ুম শব্দ ফরাসী ভাষা। ইংরাজিতে ইহাকে Stocks বলে। দুইখানা লম্বা ভারি কাষ্ঠ একদিকে শক্ত লোহার কব্‌জা দ্বারা আবদ্ধ, অন্যদিক খোলা; কিন্তু ইচ্ছা করিলে শিকলের দ্বারা বন্ধ করা যায়। এই খোলাদিকের মাথা ধরিয়া উপরের কাষ্ঠকে উঠান নামান যাইতে পারে। প্রত্যেক কাষ্ঠেই কয়েকটি অর্দ্ধচন্দ্রের ন্যায় এমন ভাবে ছিদ্র করা আছে যে একখানা কাষ্ঠের উপরে দ্বিতীয়খানা পাতিলে দুই ছিদ্রে একখানা গোলাকার ছিদ্র হয়। আসামিকে বসাইয়া কিম্বা শুয়াইয়া তাহার দুই পা একখানি কাষ্ঠের, দুই ছিদ্রের ভিতরে রাখিয়া উপরের কাষ্ঠ দ্বারা তাহা চাপা দিলে পা সম্পূর্ণরূপে আবদ্ধ হয় এবং আসামি আর নড়িতে পারে না। বিশেষ কষ্ট দেওয়ার মানস থাকিলে, পার্শ্ববর্ত্তী দুই ছিদ্রে পা না দিয়া, এক ছিদ্রমধ্যে রাখিয়া অন্তরের দুই ছিদ্রে পা আটকাইলে মানুষের অত্যন্ত ক্লেশ হয়। রাত্রিকালে দুরন্ত আসামিদিগকে নিশ্চিন্তরূপে আবদ্ধ রাখিবার নিমিত্ত সকল থানাতে ইহার এক একটা তুড়ুম ছিল।”

বসু, গিরিশচন্দ্র, সেকালের দারোগার কাহিনী, দুষ্প্রাপ্য সাহিত্য সংগ্রহ ৩, সম্পাদনা : কাঞ্চন বসু। কলকাতা : রিফ্লেক্ট পাবলিকেশন, সপ্তম মুদ্রণ : ফেব্রুয়ারি ২০০৪, পৃ. ২৭৬

১৪. “যে সময়ে দারোগা সাহেবের কাছারি গরম হইত, বিরু-বরকন্দাজ চোরেদের সম্মুখে সের খাঁ, সমসের খাঁ, রামচাঁদ, শ্যামচাঁদ নামা মুষ্টি-প্রমাণ পুষ্ট যষ্টি সারি সারি ধরিয়া রাখিত, চামড়ে হাতকড়ি কসে বাঁধিত, তখন থানা প্রাঙ্গণের শতপদ মধ্যেও যাইতাম না।”

বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রশেখর, জটাধারীর রোজনামচা, দুষ্প্রাপ্য সাহিত্য সংগ্রহ ১, সম্পাদনা : কাঞ্চন বসু। কলকাতা : রিফ্লেক্ট পাবলিকেশন, সপ্তম মুদ্রণ : ফেব্রুয়ারি ২০০৪, পৃ. ২৭৫

১৫. “এই অস্ত্রটির গঠন সকল কুঠীতে এক রকম ছিল না। কুঠী বিশেষ এবং নীলকর কিম্বা দেওয়ানজির দয়ার তারতম্য অনুসারে তাহা ভিন্ন মূর্তি ধারণ করিত। কোনও স্থানে একটি লাঠির অগ্রভাগে এক হাত দীর্ঘ এবং অর্দ্ধ হাত প্রস্থ খুব শক্ত এবং মোটা চর্ম্মের একখানা হাতা এবং কোন স্থানে হাতার পরিবর্তে অগ্রভাগে গ্রন্থিযুক্ত কয়েক ছড়া চর্ম্মের রজ্জু বান্দা থাকিত। ইহার এক আঘাতে গবর্ণমেণ্টের আদালতের বেতের বহু আঘাতের ফল হইত। দশ ঘা বেত খাইলে মনুষ্যের যে কষ্ট না হইত, শ্যামচাঁদের এক ঘায়ে তাহার অধিক যন্ত্রণা ভোগ করিতে হইত। শ্যামচাঁদ নামক এইরূপ এক অস্ত্র ইন্ডিগো কমিশন সাহেবদিগের নিকট দাখিল করা হইয়াছিল।”

বসু, গিরিশচন্দ্র, সেকালের দারোগার কাহিনী, দুষ্প্রাপ্য সাহিত্য সংগ্রহ ৩, সম্পাদনা : কাঞ্চন বসু, কলকাতা : রিফ্লেক্ট পাবলিকেশন, সপ্তম মুদ্রণ : ফেব্রুয়ারি ২০০৪, পৃ. ২৫৮

১৬. বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রশেখর, জটাধারীর রোজনামচা, দুষ্প্রাপ্য সাহিত্য সংগ্রহ ১, সম্পাদনা : কাঞ্চন বসু, কলকাতা : রিফ্লেক্ট পাবলিকেশন, সপ্তম মুদ্রণ : ফেব্রুয়ারি ২০০৪, পৃ. ২৭৫

১৭. উনিশ শতকের আরও কিছু থার্ড ডিগ্রির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে অধ্যাপক সুমন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “We hear of the following practices used in the police thanas of Bengal, described in their respective police slang; (i) sarbat khaoano, meaning thrusting urine down the throat; (ii) rule deoa, forcing a rod into the rectum; (iii) shilpakarjya, literally suggesting a work of art, but actually meaning the insertion of needles into the nails; (iv) dalan, meaning pressing on a person’s body with a bamboo log; (v) dolon, in which a person is hung, with his head usually downwards, from a horizontal pole suspended from ceiling; and (vi) krishnachura, (the red-coloured shrub of bougainvillea), the name of a punishment where the hands of the accused are tied behind him, and he is forced to raise them upwards in an extremely painful exercise.”.

Banerjee, Sumanta. The Wicked City : Crime and Punishment in Colonial Calcutta. Orient Blackswan. 2009. Page. 452

১৮. খোদ শান্তিপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ঈশ্বরচন্দ্র ঘোষালের ঘর থেকেই একবার চুরি হয়। চুরির সামগ্রী খুব সামান্য ছিল না, ‘ ঈশ্বরবাবুর কোট, পেন্টেলুন, কামিজ প্রভৃতি অনেক পরিধেয় বস্ত্র ও পোষাক, ফুলাল তৈলের ও শেরির ৪টা বোতল ও নানাবিধ কাঁচের গ্লাশ, কাঁটা চামচ, স্ক্রুপ, সোনার ঘড়ি ও চেন, রূপার গেলাস বাটী, রেকাব, হুঁকা, গুড়গুড়ী, পানের ডিপা, সোনার নস্যদানী ও একটা পেনসিল কেস, নগদ কয়েকখানা গিনি মোহর ও প্রায় ১০০ টাকা…।’ এর মধ্যে বেশিরভাগ জিনিস উদ্ধার হলেও সোনার ঘড়ি উদ্ধারের জন্যে দারোগামশাইকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও চোরের কথায় সায় দিতে হয়েছিল। অবশিষ্ট চোরাই মালের কথা কবুল করার আগে ছিরা চোর রীতিমত পেটপুরে খাওয়া দাওয়া করে, দারোগাবাবুর ধুতি চাদরে সেজে নিজ প্রেয়সীর সঙ্গে এক রাত কাটিয়ে পরেরদিন লুকোনো জায়গা থেকে চুরির সামগ্রী বের করে দেয়।

বসু, গিরিশচন্দ্র, সেকালের দারোগার কাহিনী, দুষ্প্রাপ্য সাহিত্য সংগ্রহ ৩, সম্পাদনা : কাঞ্চন বসু, কলকাতা : রিফ্লেক্ট পাবলিকেশন, সপ্তম মুদ্রণ : ফেব্রুয়ারি, ২০০৪, পৃ. ২৬১ - ২৭১

১৯. নিয়োগী, রুণু গুহ, সাদা আমি কালো আমি, ৪র্থ খণ্ড, কলকাতা : এম.এল.দে. এণ্ড কোং, প্রথম প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০০১, পৃ. ২৪ - ৩১

২০. চৌধুরী, সুপ্রিয়, পাতালপুরাণ, কলকাতা : The Café Table, দ্বিতীয় প্রকাশ : এপ্রিল, ২০২২, পৃ. ৭৯

২১. তদেব, পৃ. ৬৩

২২. ‘কার্তিককে ঘরের মধ্যে নিয়ে এলে একজন বরকন্দাজ নিখুঁতভাবে সাড়ে তিন হাত জমি মেপে দেগে দিল। কার্তিককে হুকুম করা হল এমনভাবে পা ফাঁক করে দাঁড়াতে, যাতে ওই দাগগুলো ছুঁতে পারে। একটা জরিপ করার কাঁটা খুলে ধরলে যেমন হলে সেইরকম। শুনে যতটা সহজ মনে হচ্ছে কাজটা করা মোটেই তত সহজ নয়। খুব বেশি হলে কার্তিক লম্বায় হবে পাঁচ ফুট। শরীরের উপরটা লম্বা, পা দুটো ছোট ছোট, পেটটা ঝুলে পড়েছে নীচের দিকে। মাটিতে দাগ দেওয়া জায়গাটা দেখে ভয়ের চোটে ওর তোতলামি শুরু হয়ে গেল।’...‘কার্তিককে দাগ দেওয়া জায়গার মাঝখানে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করানো হল, বরকন্দাজরা চেষ্টা করছিল ওর পা দুটো টেনে দাগের কাছে নিয়ে যাওয়ার।...সে বুঝতে পেরেছিল ওই চেষ্টা করতে গেলে শরীর চিরে দু-ফাঁক হয়ে যাবে। শেষে কাঁপতে কাঁপতে ও আচমকা বেহুঁশ হয়ে মাটিতে গড়িয়ে পড়ল।’...‘তারপর ও একটা ভাঁড় এনে হাজির করল। তার মধ্যে কয়েকটা শুকনো লঙ্কা রেখে ওপর থেকে চাপাল জ্বলন্ত কয়লার টুকরো। লঙ্কাগুলো পট্‌পট্‌ করে ফাটতে শুরু করলে এমন ধোঁয়া আর গন্ধ বেরোতে লাগল যে আমরাই হেঁচে-কেশে অস্থির। এবার ছকু সেই ভাঁড়টা নিয়ে রাখল কার্তিকের মাথার কাছে। তারপর ঘরের কোনা থেকে একটা চটের বস্তা তুলে নিয়ে ঢেকে দিল কার্তিকের মাথা আর ভাঁড়টা। ...হাঁচতে হাঁচতে আর কাশতে কাশতে তড়াক করে খাড়া হয়ে বস্তাটা ছুঁড়ে ফেলল কার্তিক।’ ‘কিন্তু ছকু তখন খেপে উঠেছে। ... তাই ও এবার ঘরের চাল থেকে দড়ি ঝোলানোর শেষ হুকুম জারি করল, তারপর নিজেই পিছমোড়া করে বেঁধে ফেলল কার্তিকের হাতদুটো। হাত বাঁধার সময় কার্তিক কোনো আপত্তি করল না।ওর সঙ্গে ঠিক কী হতে চলেছে সেটা ও তখনও বুঝে উঠতে পারেনি, কিন্তু চাল থেকে ঝোলানো দড়িটার দিকে নজর পড়তেই ওর কাছে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেল। ও শুরু করে দিল চিৎকার। ছকুর ঘাড়ে তখন শয়তান ভর করেছে। দড়ির শেষ গিঁটটা নিজের হাতে ভালো করে দিয়ে যে বরকন্দাজ সেটার অন্য দিক ধরে দাঁড়িয়েছিল তাকে সরিয়ে নিজেই পাগলের মতো টান দিল।আমি শুধু শুনতে পেলাম একটা তীক্ষ্ণ চিৎকার। টিমটিমে বাতির আলোয় নজরে এল উপর থেকে কিছু একটা ঝুলে আছে। ঠিক সেই মুহুর্তে বাতিটা নিভে গেল। চারিদিক অন্ধকার।’ এবং কার্তিকের স্বর্গপ্রাপ্তি। ছকু জমাদার পরে রেগে গিয়ে বলেছিল, “শালা যে কী করে ফৌত হল আমার মাথায় ঢুকছে না, মনে হয় ভয়ের চোটেই ফৌত হয়ে গেছে। এইসব তিলি, তামুলি জাতের লোকেরা সহজে মরে না। একবার একটা ডোমকে হাত-পা বেঁধে সারা রাত ঝুলিয়ে রেখেছিলাম, সকাল হলে দড়ি খুলে দেখি একেবারে বুলবুলের মতো তাজা! এক সের চিঁড়েগুড় খেয়ে নিল! এই তামুলিগুলো হচ্ছে আসল বজ্জাত, এদের জন্মই হয়েছে আমাদের ঝামেলায় ফেলবে বলে। দড়ি ছিঁড়ে গেল, হাত পর্যন্ত খুলে এলো না আর শালা কিনা ভয়ের চোটে ফৌত হয়ে গেল।”

মিয়াজান দারোগার একরারনামা, অনুবাদ : অরিন্দম দাশগুপ্ত, কলকাতা : চর্চাপদ, প্রথম বাংলা সংস্করণ : জুন, ২০০৯, পৃ. ৪১ - ৪৫

২৩. “সেলের মধ্যে আবার এস. আই সেপাইদের চারটে গরম সেদ্ধ ডিম আনার হুকুম দিয়ে দিলো এবং বললো,’এবার সে কথা বলবে।’ তারপর চার-পাঁচজন সেপাই আমাকে জোরপূর্বক ধরে চীৎ করে শুইয়ে রাখলো এবং একজন আমার যৌন অঙ্গের মধ্যে একটা গরম সিদ্ধ ডিম ঢুকিয়ে দিলো। আমি যেন আগুনে পুড়ে যাচ্ছিলাম। এরপর আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি।”

“৯-১-৫০ তারিখে সকালে যখন আমার জ্ঞান হলো তখন উপরোক্ত এস.আই এবং কয়েকজন সেপাই আমার সেলে এসে তাদের বুটে করে আমার পেটে লাথি মারতে শুরু করলো।এরপর আমার ডানপায়ের গোড়ালীতে একটা পেরেক ফুটিয়ে দেওয়া হলো। সে সময়ে আধা অচেতন অবস্থায় পড়ে থেকে আমি এস.আইকে বিড়বিড় করে বলতগে শুনলাম: আমরা আবার রাত্রিতে আসছি এবং তুমি যদি স্বীকার না করো তাহলে সিপাইরা একে একে তোমাকে ধর্ষণ করবে। গভীর রাত্রিতে এস.আই এবং সিপাইরা ফিরে এলো এবং তারা আবার সেই হুমকি দিলো। কিন্তু আমি যেহেতু তখনো কিছু বলতে রাজী হলাম না তখন তিন-চারজন আমাকে ধরে রাখলো এবং একজন সেপাই সত্যি সত্যি আমাকে ধর্ষণ করতে শুরু করলো। এর অল্পক্ষণ পরই আমি অজ্ঞান হয়ে পড়লাম।” (আদালতে ইলা মিত্রের জবানবন্দি - ১৯৫০)

মূল তথ্যসূত্র : সেন, সত্যেন, বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলন, ঢাকা : কালিকলম প্রকাশনী, পৃ. ১১২ - ১১৬

আমাদের ব্যবহৃত তথ্য সূত্র : ইলা মিত্রের জবানবন্দি। সম্পাদনা : শেখ রফিক, ঢাকা : বিপ্লবীদের কথা প্রকাশনা, দ্বিতীয় সংস্করণ : নভেম্বর ২০১৫, পৃ. ১৬ - ১৭

২৪. ঘোষাল,পঞ্চানন, অপরাধবিজ্ঞান, প্রথম খণ্ড, কলকাতা : লালমাটি, লালমাটি সংস্করণ : বইমেলা, ২০১৮, পৃ. ৪৯

২৫. নিয়োগী, রুণু গুহ, সাদা আমি কালো আমি, ৪র্থ খণ্ড, কলকাতা : এম.এল.দে. এণ্ড কোং, প্রথম প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০০১, পৃ. ২৯

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : ইলা মিত্রের জবানবন্দি বইটি সংগ্রহ করে দিয়েছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রণিতা চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে আমার ধন্যবাদ জানাই।

Downloads

Published

2023-01-26

Issue

Section

Articles

How to Cite

পুলিশি ডিটেকশনের কালো দিক : সাহিত্যে থার্ড ডিগ্রির নজির. (2023). TRISANGAM INTERNATIONAL REFEREED JOURNAL, 3(1), 259-266. https://tirj.org.in/tirj/article/view/1084