বরাক উপত্যকার বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী লোককথায় শিশু ও কিশোর/ BORAK UPATTYAKA BISHNUPRIYA MONIPURI LOKOKOTHAY SHISHU O KISHOR
Keywords:
- ইমার ঠার,
- য়ারি (লোককথা),
- লোকএলা (লোকগীত),
- পৌরেই (প্রবাদ),
- লোককবিতা (ছড়া),
- বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী
Abstract
বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীরা ইন্দো-আর্য উপ-পরিবারের বাংলা-অসমীয়া দলের ভাষা গোষ্ঠীর মানুষ। এই সম্প্রদায়ের ভাষার নাম ‘বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী’। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীরা এই ভাষাকে ‘ইমার ঠার’ বা ‘মায়ের ভাষা’ বলে থাকে। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সম্প্রদায়ের উৎপত্তি ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে হয়েছিল। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীরা বিভিন্ন সময়ে আসাম রাজ্যের বরাক উপত্যকায় ব্যাপকহারে বসতি স্থাপন করে। যার ফলে উক্ত অঞ্চলে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীরা আলাদা একটা মান্যতা পেয়ে আসছেন। বরাক উপত্যকার বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের রয়েছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সাহিত্য। রয়েছে নিজস্ব আচার-অনুষ্ঠান, রীতি-নীতি, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিল্পকলা, বিশ্বাস, সংস্কার প্রভৃতি।
আমরা জানি একটা অঞ্চলের সমাজ-সংস্কৃতি অধ্যয়নে ‘লোককথা’ এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবন ও তার গতিপ্রকৃতি নিয়েই লোককথার পরিব্যাপ্তি। পৌরাণিক বা পুরা কাহিনি, কিংবদন্তি, উপকথা, রূপকথা, ব্রতকথা ইত্যাদি নানা ভাগেও লোককথাকে বিভক্ত করা যায়। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষায় লোককথাকে বলা হয় ‘য়ারি’। এই ‘য়ারি’কে সাধারণত উপকথা এবং রূপকথা হিসেবে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়। প্রত্যেক ভাষা গোষ্ঠীর মধ্যে লোককথার প্রচলন লক্ষনীয়। লোককথা শুধুমাত্র মৌখিক সাহিত্য হিসেবে নয়, সমাজতত্ত্ব-নৃতত্ত্ব-মনস্তত্ত্ব, ইতিহাস, কিংবদন্তি ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রেই গুরুত্ব অপরিসীম। সমাজ জীবনে প্রচলিত বিশ্বাস- সংস্কার, সামাজিক বৈষম্য, শ্রেণী দ্বন্দ্ব, মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। লোককথার একটি অতি উল্লেখযোগ্য বিভাগ-উপকথা। উপকথা বা নীতিকথা মূলক লোককথায় পশু-পাখি ও জীব-জন্তু মানুষের মত আচরণ করে। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী লোককথার শেষে একটা উপদেশের প্রসঙ্গ পাওয়া যায়। লক্ষনীয় বিষয়, সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞানের সারৎসারই উপকথার মধ্যেই প্রকাশ পায়।
শিশু-কিশোররা লোককথার বৈশিষ্ট্য খোঁজার চেষ্টা করে না বরং তার চারপাশে আপন জগৎ খুঁজে বেড়ায়। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী লোককথা গুলো শিশু-কিশোর মনকে সহজেই আকৃষ্ট করে। পৃথিবীর সমস্ত কিছুর মধ্যেই তারা বিস্ময় খুঁজে। এক নতুন তরঙ্গে আন্দোলিত হতে থাকে তাদের মন, গল্পের শ্রোতারা অনায়েসেই এগিয়ে যায় কাল্পনিক জগতে। এখানেই শিশুরা কৌতুহলী শ্রোতার ভূমিকায় অবতীর্ণ৷ আমরা জানি, লোককথা ‘লোকমন’ থেকেই উদ্বুদ্ধ তাই, লোককথায় মানব মনের নানা ইচ্ছা, নানা অধরা বস্তুকে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করা যায়। লোককথা মানব জীবনের দলিল। প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা, আনন্দ-বেদনা, বিশ্বাস-সংস্কারের চিত্রপট গুলি লোককথায় চিত্রিত হয়েছে।
Downloads
References
১. চৌধুরী, দুলাল সম্পাদিত, বাংলার লোক সংস্কৃতির বিশ্বকোষ, আকাদেমি অফ ফোকলোর, কলকাতা, ২০০৪, পৃ. ৪
২. পূর্বোক্ত, বাংলার লোক সংস্কৃতির বিশ্বকোষ, পৃ. ৪০
৩. করণ, সুধীর কুমার, বিশ্বলোককথা সমীক্ষা, পুনশ্চ, কলকাতা, ২০০০, পৃ. ৩০
৪. চক্রবর্তী ডক্টর বরুণকুমার, (সম্পাদিত), বঙ্গীয় লোকসংস্কৃতি কোষ, অপর্ণা বুক ডিস্ট্রিবিউটার্স, কলকাতা, ২০০৭, পৃ. ৫৬
৫. চট্টোপাধ্যায়, প্রীতিভূষণ, শিক্ষায় মনোবিদ্যা, মডার্ন বুক এজেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা- ১২, প্রথম সংস্করণ-১৯৬০, পৃ. ৫২৫
৬. ভট্টাচার্য্য শ্রী আশুতোষ, বাংলার লোক-সাহিত্য, ক্যালকাটা বুক হাউস, পরিবদ্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ-১৯৫৭, পৃ. ৩৮৯
৭. পূর্বোক্ত, বাংলার লোক সাহিত্য, পৃ. ৩৮৪
৮. চক্রবর্তী বরুণকুমার, বাংলা লোকসাহিত্য চর্চার ইতিহাস, পুস্তক বিপণি, ষষ্ঠ পরিমার্জিত সংস্করণঃ জানুয়ারি-২০১০, পৃ. ৫০১
Downloads
Published
Issue
Section
License

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.

