Maniker Chotogolpe Protispordhi Konthoswarer Utthan, Bektisyatantrabad Protistha: Prosongo ‘Silpi’ O ‘Duhshasoniyo’ (মানিকের ছোটগল্পে প্রতিস্পর্ধী কণ্ঠস্বরের উত্থান, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ প্রতিষ্ঠা : প্রসঙ্গ ‘শিল্পী’ ও ‘দুঃশাসনীয়’)
Keywords:
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য,
- ধনতন্ত্র,
- বণিকতন্ত্র,
- প্রতিস্পর্ধী কণ্ঠস্বর,
- শ্রেণিশক্তি,
- স্বার্থান্বেষী সমাজ,
- শ্রেণিজাগরণ
Abstract
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময় দুর্ভিক্ষ, বস্ত্রসংকট ও কালোবাজারীর মধ্যে দিয়ে ধনতন্ত্রের যেই নিকৃষ্ট দিকটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখে ধরা পড়েছিল, তা থেকেই জন্ম নিয়েছিল ‘শিল্পী’ ও ‘দুঃশাসনীয়’-র মতো প্রতিস্পর্ধী গল্পগুলো। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহু গল্পে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে বারংবার আমরা একত্রিত হতে দেখেছি শোষিত ও নিপীড়িত মানুষদের। মূলত মার্কসবাদে দীক্ষিত কমিউনিস্ট মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ফ্রয়েডীয় মনস্তত্ত্বের বাইরে গিয়েও লিখেছেন খেটে-খাওয়া শ্রেণি তথা শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে। তিনি তাঁর লেখার মাধ্যমে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছেন। আমরা একদিকে যেমন পাই ‘শিল্পী’ গল্পে মদন তাঁতির নিজের কাজের প্রতি অব্যক্ত নিষ্ঠার ছাপ এবং শত দরিদ্রতা সত্বেও প্রদীপের শিখার মতো জ্বলন্ত তার ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, তেমনি আবার আমরা পাই ‘দুঃশাসনীয়’ গল্পে অভিমানী রাবেয়ার নিজের আত্মসম্মান বাঁচানোর তাগিদে পুকুরে আত্মাহুতি। ‘শিল্পী’ গল্পে বারংবার ধ্বনিত হয় একজোট হয়ে তাঁতিপাড়ার সকলের শোষকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গঠন। ‘দুঃশাসনীয়’ গল্পে অসহায় নগ্নছায়ামুর্তিদের হাতিপুর গ্রামে নিজের আত্মসম্মান রক্ষার্থে দুঃসাহসী রাবেয়ায় শেষ পরিণতি হচ্ছে আত্মহত্যা। এখান থেকেই মুখোশধারী সমাজের ব্যর্থতাকেই খুঁজে পাই। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দুঃশাসন’ গল্পটির কথা যদি ভাবি, তবে সেখানেও বস্ত্র সংকটের কাহিনী রয়েছে, সেখানেও নগ্ন ছায়া মূর্তিদের কথা রয়েছে; কিন্তু যেই বিষয়টি নেই তা হল প্রতিস্পর্ধী কণ্ঠস্বরের উত্থান এবং ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের ছোঁয়া; অথচ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দুঃশাসনীয়’ -তে আমরা খুঁজে পাই স্পর্ধা, একত্র শ্রেণিজাগরণ ও চরম লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে রাবেয়ার শেষ প্রতিবাদ। ধনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার উৎক্ষেপণ ছাড়া কোনও ভাবেই সমাজে সাম্যতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় এবং তার ফল স্বরূপ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মার্কসবাদের পথ বেছে নিয়েছিলেন। এমনকি তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘ফ্যাসিস্ট বিরোধী লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘ’-এ যোগ দিয়েছিলেন আনুমানিক ১৯৪৭ সালের গোড়ায়। তাই তাঁর বহু ছোটগল্পে রাজনীতি-সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি নানান আঙ্গিকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পের চরিত্ররা নিজেরাই লড়াই করেছে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত অধিকারকে ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে, কারণ তাদের চেতনায় মিশে আছে প্রতিবাদের ভাষা। এটা খুবই সুস্পষ্ট ছিল যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই ছিল ধনতান্ত্রিক সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরচিত ‘শিল্পী’ এবং ‘দুঃশাসনীয়’-তে একত্র শ্রেণিশক্তি জাগরণের মধ্যে দিয়েই প্রতিস্পর্ধী চরিত্রগুলোকে খুঁজে পাই; যেই চরিত্রগুলো কখনোই নিজের আত্মসম্মানকে বিক্রি করতে রাজি নয়, চরিত্রগুলো নিজের স্বতন্ত্র ইচ্ছে গুলোর জন্য লড়াই করতে জানে। ক্রমেই সেই প্রতিস্পর্ধী চরিত্রগুলোর মধ্যে অবলীলায় প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য।
Downloads
References
১. যুগলবন্দী গল্পকার : তারাশঙ্কর মানিক, প্রজ্ঞাবিকাশ পাবলিশার্স, পুনর্মুদ্রণ, এপ্রিল ২০১৭, পৃ. ৩৫৪
২. তদেব, পৃ. ৩৫৬
৩. তদেব,পৃ. ৩৫৭
৪. তদেব, পৃ. ৩৫৮
৫. তদেব, পৃ. ৩৬০
৬. তদেব, পৃ. ৩৬১
৭. তদেব, পৃ. ৩১৬
৮. তদেব, পৃ. ৩১৬
৯. তদেব, পৃ. ৩১৬, ৩১৭
১০. তদেব, পৃ. ৩১৯, ৩২০
১১. তদেব, পৃ. ৩১৮
১২. তদেব, পৃ. ৩২০
১৩. তদেব, পৃ. ৩২৩
১৪. তদেব, পৃ. ২৫৮, ২৫৯
১৫. দুঃশাসন, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, বেঙ্গল পাবলিশার্স কলিকাতা, আশ্বিন ১৩৫২, পৃ. ৩
১৬. তদেব, পৃ. ১২
১৭. তদেব, পৃ. ১৪
১৮. দত্ত, বীরেন্দ্র, বাংলা ছোটগল্প: প্রসঙ্গ ও প্রকরণ, পঞ্চম সংস্করণ, জুলাই ২০০৪, পৃ. ৩১৬
১৯. তদেব, পৃ. ৩১৬
২০. চৌধুরী, শীতল, বাংলা ছোটগল্প: মননে-দর্পণে, প্রজ্ঞাবিকাশ পাবলিশার্স, প্রথম প্রকাশ, রথযাত্রা-২০০৫, পৃ. ১৮৬

