বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতিষ্ঠায় মধ্যযুগীয় পর্ব : চণ্ডীমঙ্গলকাব্য এবং কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর স্বতন্ত্র কাব্যভাষা
Keywords:
- বাংলা ভাষা,
- মুসলমান শাসক,
- মঙ্গলকাব্য,
- দেবী চণ্ডী,
- কবি মুকুন্দরাম,
- জীবন দর্শন
Abstract
বাংলা সাহিত্যের সূচনা প্রাচীনযুগে হলেও এর বিস্তার ঘটেছিল মধ্যযুগীয় পর্বে। যদিও তা খুব সহজে হয়নি। সংস্কৃত আরবি ফারসির পরিবর্তে মার্তৃভাষায় সাহিত্যচর্চা সেদিন অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছিল। তবে মধ্যযুগের বাংলার মুসলমান শাসকদের আগ্রহ ও পৃষ্ঠপোষকতা এই পর্বে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে সদর্থক ভূমিকা নিয়েছিল। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য বিভিন্নধারায় ও রূপে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে যার অন্যতম হল মঙ্গলকাব্য। যা পরবর্তী বেশ কয়েকটি শতকে একটি নির্দ্দিষ্ট প্যাটার্নকে অবলম্বন করে ভিন্ন ভিন্ন রূপে পল্লবিত ও বিকশিত হয়েছে। এই মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম চণ্ডীমঙ্গলকাব্য। আমাদের আলোচনায় এসেছে মঙ্গলকাব্য রচনার ধর্মীয়-সামাজিক-রাজনৈতিক এবং সাধারণ কারণসমূহ। প্রসঙ্গত আলোচিত হয়েছে দেবী চণ্ডীর উৎস সন্ধান। বিস্তারিত ভাবে আলোচিত হয়েছে চণ্ডীমঙ্গল তথা মধ্যযুগের কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর কাব্যের স্বতন্ত্র কাব্যভাষা। মুকুন্দরাম তাঁর কাব্যের গ্রন্থোৎপত্তির কারণ অংশে সেদিনের সমাজ জীবনের বাস্তব নিষ্ঠ বর্ণনা দিয়েছেন। কিন্তু এটাই তাঁর কাব্যের বড় দিক নয়। পাঠান-মোগল সংঘর্ষের ভাঙা গড়ার এক বিশেষ পর্বে কবিকে অত্যাচারিত হয়ে গৃহ ত্যাগ করতে হয়েছিল। কবি লিখেছেন সেসব কথা কিন্তু কোথাও ব্যক্তিগত আক্রোশ প্রকাশ পায়নি। প্রকৃত সাহিত্যিকের মতো নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে এঁকেছেন সবকিছু। অদ্ভুত এক মানব মমত্ববোধ লক্ষিত হয়েছে তাঁর লেখায়। যা হয়েছে কেবল তার বিবরণ দেননি যা হওয়া উচিত তাকেও দেখিয়েছেন। আক্ষেটি খণ্ডে কালকেতুর গুজরাট নগর নির্মাণ অংশে বহু ধর্ম জাতিতে বিভিক্ত ভারতবর্ষে কিভাবে সামাজিক সমন্বয় সম্ভব তার পথ দেখাতে চেয়েছেন। প্রসঙ্গত আলোচিত হয়েছে তাঁর লেখনীর বিভিন্ন দিক কবি প্রতিভার নিজস্বতা। আলোচনায় এসেছে তাঁর চরিত্র সৃষ্টির অসামান্য দক্ষতা। মানব জীবন ও সমাজ সম্পর্কে যে তাঁর গভীর অন্তর্দৃষ্টি ছিল তা বেশ বোঝা যায়। চরিত্র সৃষ্টির স্বকীয়তা,চরিত্র উপযোগী ভাষা নির্মাণ, নিজস্ব জীবনদর্শনকে অবলম্বন করে মধ্যযুগে দাঁড়িয়ে তিনি যে কাব্যভাষা নির্মাণ করলেন এই আধুনিক যুগেও তা খুব বেশি লক্ষিত হয়না। মুকুন্দরাম তাই একইসাথে সমকালীন ও চিরকালীন।
Downloads
References
১. সেন, দীনেশচন্দ্র, বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (প্রথম খণ্ড), অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় (সম্পাদিত), পঃবঃ রাজ্য
পুস্তক পর্ষৎ, পৃ. ১২৭
২. সেন, সুকুমার, বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, আনন্দ, পৃ. ৪১২
৩. সেন, সুকুমার, বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, আনন্দ, পৃ. ৪১৩
৪. পাল, সুব্রত, অভয়া দুর্গা এবং লৌকিক দেবী, চিঠিপত্র বিভাগ, আনন্দবাজার পত্রিকা
৫. সরকার, সৌমেন্দ্রনাথ, কবিকঙ্কন মুকুন্দরামের চন্ডীমঙ্গল, গ্রন্থবিকাশ, কল-৭৩, পৃ. ৬৪
৬. ঐ, পৃ. ৬৪-৬৫
৭. ঐ, পৃ-৯৫
৮. ঐ, মুসলমানগণের আগমন, পৃ. ১০২
৯. ঐ, মুসলমানদের শ্রেণী বিন্যাস, পৃ. ১০৩
১০. ঐ, মুসলমানগণের আগমন, পৃ. ১০২
১১. পোদ্দার, অরবিন্দ, মানবধর্ম ও বাংলা কাব্যে মধ্যযুগ, উচ্চারণ, কলকাতা, পৃ-৮৬
১২. মুখোপাধ্যায়, শ্রী নির্মলেন্দু, ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল, মডার্ণ বুক এজেন্সী, কলিকাতা-৭৩, গ্রন্থ সূচনা,
পৃ. ১৫
১৩. সরকার, সৌমেন্দ্রনাথ, কবিকঙ্কন মুকুন্দরামের চন্ডীমঙ্গল, গ্রন্থবিকাশ, কল-৭৩, ক্ষত্রিয় প্রভৃতি জাতির
আগমন, পৃ. ১০৫
১৪. ঐ, ব্রাহ্মণগণের আগমন, পৃ. ১০৪
১৫. বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রীকুমার, বঙ্গসাহিত্যে উপন্যাসের ধারা, মডার্ণ বুক এজেন্সী, কলিকাতা-৭৩, পৃ. ১২
১৬. মুখোপাধ্যায়, সুখময়, মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের তথ্য ও কালক্রম, ভারতী বুক স্টল, কল-০৭,
পৃ. ১৩৪-৩৫
১৭. বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিতকুমার, বাংলা সাহিত্যের সম্পূর্ণ ইতিবৃত্ত (দ্বিতীয় খণ্ড), মর্ডার্ণ বুক এজেন্সী, কল-
৭৩, পৃ. ১৭৯
১৮. সরকার, সৌমেন্দ্রনাথ, কবিকঙ্কন মুকুন্দরামের চন্ডীমঙ্গল, গ্রন্থবিকাশ, কল-৭৩, ভাঁড়ু দত্তের আবির্ভাব,
পৃ. ১০১
১৯. ঐ, ভাঁড়ু দত্তের কপটবাণী, পৃ. ১২৯
২০. ঐ, কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি, পৃ. ৮৬
২১. সেন, দীনেশচন্দ্র, বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (দ্বিতীয় খণ্ড), (অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত), পঃবঃ রাজ্য
পুস্তক পর্ষৎ, কলকাতা-১৩, পৃ. ৪৪৯
২২. সরকার, সৌমেন্দ্রনাথ, কবিকঙ্কন মুকুন্দরামের চন্ডীমঙ্গল, গ্রন্থবিকাশ, কল-৭৩, অঙ্গুরী বিক্রয়ের দর-
কষাকষি, পৃ. ৮৭

