বিশ্লেষণের আলোকে জীবনানন্দের কবিতার মননধর্মী পর্যালোচনা
Keywords:
- ভাষা ব্যবহার,
- জীবনানন্দ,
- প্রকৃতির রূপচিত্র,
- বাস্তব সচেতন,
- আধুনিক যুগযন্ত্রণার কবি,
- মৃত্যু চেতনা,
- অস্তিতের সংকট
Abstract
যে সকল শিল্পির সৃষ্ট মুকুরে আমরা আমাদের অন্তরাত্মার সঙ্গে বহিঃজগতের বা আমাদের মনের অন্ধকারময় দিক কিংবা সমাজের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট দেখতে পায় সেই সকল শিল্পীর শিল্পত্বের সাহচর্যে আমাদের মনের নানান দুয়ার খুলতে আরম্ভ করে, এবং সেই এক একটি দুয়ারে বিভিন্ন অনুভূতির চিঠি আসতে থাকে, সেই চিঠি পড়ে আমাদের বোধের জাগরণ ঘটে, ফলত আমরা ক্রমশ সৃষ্টির সকল দিককে সঠিক ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারি। তেমনই একজন বিশিষ্ট কবি শিল্পী জীবনানন্দ। যার লেখায় আমরা আমাদের চোখে দেখা, ছুঁয়ে দেখা জগতের পরিচয় যেমন পায় তেমনি না দেখা জিনিসের অনুভূতি পায়।
এক দিকে প্রকৃতি, অন্যদিকে সমাজ, সমাজের নানান অন্ধকারময় দিক। সব দিকেই তাঁর দৃষ্টি লক্ষ্য করতে পারি। জীবনের নানান অভিঘাতের কথা বলে তিনি যেমন আমাদের চক্ষুতে আলো সঞ্চার করেছেন তেমনি আধুনিক যুগযন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি তাঁর লেখনিতে ফুটে উঠেছে। জীবনানন্দের কবিতায় মূলত রয়েছে এক গভীর বিস্ময়ের অনুভূতি, তাইতো তাঁর কবিতা পরে আমরা সেই বোধে আক্রান্ত হয়ে পরি, ভাবতে থাকি সকল মানুষের মাঝে থেকেও কেন একা হয়ে পড়ছি। মৃত্যুচেতনা, অন্ধকার, কালো রঙ, ধূসরতা তাঁর কবিতায় এক রহস্যের সৃষ্টি করেছে। একটু সচেতন হয়ে পরলেই আমরা বুঝতে পারি এ সকল তাঁর যুগযন্ত্রনা বা জীবনের নানান অভিঘাতে জর্জরিত অনুভূতির ফসল ।
'শিকার' কবিতায় তিনি যে সমাজের পরিচয় দিয়েছেন তা যেন আমাদের বর্তমান সময়েরই প্রতিচ্ছবি মনে করায়। এছাড়াও প্রকৃতির রূপ তিনি যে ভাবে দেখেছেন বা প্রকৃতি নিয়ে ভেবেছেন তা দেখে রীতিমতো আমাদের আশ্চর্য হতে হয়, এত গভীর ভাবনা তাঁর লেখনিতে প্রকাশ পেয়েছে তা আর অন্য কোথায় আমরা পায় না। বর্তমান যুগে দাঁড়িয়ে জীবনানন্দ আমাদের কাছে শান্তির আশ্রয়ের মতন। দুদণ্ড শান্তির যে আশ্রয় কবি তাঁর বনলতা সেনের কাছে পেয়েছিলেন, এই অস্থির জীবনে তাঁর কবিতাও আমাদের দুদণ্ড শান্তির আশ্রয় দেয়। প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধ ধূলো মাটি: কাঁদা-জল সমস্ত কিছুকেই তিনি যেন গভীর ভাবে অনুভব করেছেন। উপমা, অলংকার ছন্দ চর্চায় ও তিনি বিশেষ প্রতিষ্ঠার সাক্ষর রেখেছেন। জীবনানন্দের কবিতায় রঙের ব্যবহার কবিতাগুলিতে এক সতেজতা এক বিশিষ্টতা বলা ভালো জীবন্ত অনুভূতি দান করেছে। জীবনানন্দের লেখনিতে যে সকল দিকগুলি উন্মোচিত হয়েছে কিংবা তাঁর লেখার সঙ্গে তাঁর মনন জগতের যে মেলবন্ধন যে অনুভূতি রয়েছে এবং সমাজের নানান দিক নিয়ে তিনি যে ভাবে ভেবেছেন, দেখছেন, সে সকল , যে কতটা বাস্তব বলে প্রমাণ অনুভূতির পাত ছিঁড়ে এসেছে এবং জীবনানন্দের লেখনী যে বর্তমান সময়ে কতোটা প্রাসঙ্গিক সে সকল দিক গুলিই মূল প্রবন্ধে আলোচনা করতে চেয়েছি।
Downloads
References
১. বসু্, বুদ্ধদেব, ‘কালের পুতুল’ (জীবনানন্দ দাশ এর স্মরণে) নিউ এজ পাবলিশার্স, চতুর্থ সংস্করণ বৈশাখ
১৪১৭, মে ২০১০, পৃ. ৩৯
২. দাশ, জীবনানন্দ, ‘কবিতায় আত্মা শরীর’ পৃ. ৪৫
৩. দাশ, জীবনানন্দ, ‘নির্জন স্বাক্ষর’ (জীবনানন্দ দাশ এর শ্রেষ্ট কবিতা), লতিকা প্রকাশনী, প্রথম প্রকাশঃ শুভ
নববর্ষ ১৪২২, পৃ. ২১
৪. বসু, বুদ্ধদেব, ‘কালের পুতুল’ (জীবনানন্দ দাশ এর স্মরণে) নিউ এজ পাবলিশার্স, চতুর্থ সংস্করণ বৈশাখ
১৪১৭, মে ২০১০, পৃ. ৪৫-৪৬
৫. দাশ, জীবনানন্দ, ‘বোধ’ (জীবনানন্দ দাশ এর স্মরণে), লতিকা প্রকাশনী, প্রথম প্রকাশ, শুভ নববর্ষ, ১৪২২,
পৃ. ১৬ - ১৭
৬. ঐ, পৃ. ১৮
৭. ঐ, ’আট বছর আগের একদিন’ পৃ. ৭৫
৮. ঐ, পৃ. ৭৪
৯. বসু বুদ্ধদেব, ‘কালের পুতুল’ (জীবনানন্দ দাশ এর স্মরণে) নিউ এজ পাবলিশার্স, চতুর্থ সংস্করণ, বৈশাখ
১৪১৭, মে ২০১০, পৃ. ৫৪
১০. ঐ, পৃ. ৫৫
১১. ঐ, পৃ. ৫৬
১২. দাশ, জীবনানন্দ, ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি’ (জীবনানন্দ দাশ এর শ্রেষ্ট কবিতা), লতিকা প্রকাশনী,
প্রথম প্রকাশ, শুভ নববর্ষ ১৪২২, পৃ. ৪৩
১৩. ঐ
১৪. ঐ, ‘আবার আসিব ফিরে' পৃ. ৪৪
১৫. বসু, বুদ্ধদেব, 'কালের পুতুল' (জীবনানন্দ দাশ : ধুসর পাণ্ডুলিপি) নিউ এজ পাবলিশার্স, চতুর্থ সংকল্প,
পৃ. ২৭
১৬. দাশ জীবনানন্দ, 'অদ্ভুত আঁধার এক' (১২ নং দ্রষ্টব্য) পৃ. ১৪৩
১৭. ঐ, 'পিরামিড', পৃ. ১০
১৮. ঐ, 'অন্ধকার', পৃ. ৫১
১৯. ঐ, 'মৃত্যুর আগে', পৃ. ১৬
২০. ঐ, 'আট বছর আগের একদিন', পৃ. ৭৪
২১. ঐ, ‘অন্ধকার', পৃ. ৫১
২২. ঐ, 'রাত্রি', পৃ. ৯১
২৩. ঐ 'জনান্তিকে', পৃ. ১০৪
২৪. ঐ
২৫. ঐ
২৬. ঐ, 'সুচেতন', পৃ. ৫৫
২৭. ঐ, 'শিকার', পৃ. ৭০ – ৭১
২৮. ঐ, 'রাত্রি', পৃ. ৯১
২৯. চক্রবর্তী, সুমিতা, 'জীবনানন্দ সমাজ ও সমকাল', সাহিত্য লোক, নতুন সংস্করণ, ১ বৈশাখ ১৪২৩, ১৪
এপ্রিল ২০১৬, পৃ. ৩৭

