বীরাঙ্গনা কাব্যে প্রেম মনস্তত্ত্ব : একটি পর্যালোচনা / BIRANGGANA KABYE PREM MANOSTATYA : EKTI PORJALOCHONA
Keywords:
- প্রেম,
- কবি মধুসূদন,
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্রতা,
- বীরাঙ্গনা,
- উনিশ শতক
Abstract
মানবজীবনের ক্রমিক বিকাশধারায় প্রেম তার রূপময় বিচিত্রতা এবং রসময় মাধুর্য নিয়ে উপস্থিত হতে পারে। প্রেমের আরক্ত সংরাগের সাথে সাথে মনোজীবনে তা নিয়ে এল অন্তরঙ্গ ভূমিকা। মৃত্যু অতিক্রমী জীবনের জয়স্তম্ভ গড়ে উঠলো প্রেমের মহিমময় আগ্রহে। প্রেমই মানব জীবনের চিরকালের কাব্য কালোত্তর সংগীত অন্তহীন স্বপ্ন। তবে প্রেমের রূপ বিচিত্রময়। তার গতি প্রকৃতিও বহুধা পথে প্রবাহিত। প্রেমে যেমন মিলনের নিবিড় আনন্দ আছে, তেমনি আছে বিরহের অতলান্ত মর্মব্যাথা। নারীকে কেন্দ্র করেই মূলত বিশ্বের প্রেম সাহিত্য গড়ে উঠেছে। নারীর স্পর্শ–প্রেরণা ও অনুকম্পায় মানুষ প্রেমের রহস্য জগতে প্রবেশের সু্যোগ পায়। তবে, ঊনিশ শতকের কাব্য-কবিতায় নারীর ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার কন্ঠোচারণ বারবার শোনা গেছে। পুরুষের তথা সমাজের শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে, স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার স্বাধীনতার জন্য একজন নারী যা কামনা করে তা হল স্বামীর প্রেম, মাতৃত্ব এবং সামাজিক–পারিবারিক ক্ষেত্রে সম্মান প্রতিষ্ঠা। কবি মধুসূদন দত্ত আধুনিক ভাবধারার কবি। তিনি সাম্যবাদের যুগে নারীকে সমানাধিকার তথা স্বাধীনতা দেওয়ার জন্য কলম ধরেছেন। নারীর ব্যক্তিত্ব প্রতিষ্ঠায় তিনি সোচ্চার হয়েছেন। তাই রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণের কাহিনী ও চরিত্র বিশেষ করে বিশিষ্ট কয়েকজন নারী চরিত্রকে কবি গ্রহণ করেছেন। তাঁর ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্যে। নারী জীবনের বিভিন্ন পর্বে প্রেম যে নানা রূপে-রসে-গন্ধে–বর্ণে নিত্যই ছুঁয়ে যায়, তকে এক বৈচিত্রময়তায় কবি তুলে ধরেছেন। সবটা মিলে প্রেমের একটা সামগ্রিকতার রূপ ও পরিমণ্ডল আভাসিত হয়ে উঠেছে ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্যের বিভিন্ন পত্রিকাগুলিতে। ‘বীরাঙ্গনা’ বৈধ বা অবৈধ নরনারীর মুক্ত প্রেমের বলিষ্ঠ চেতনায় ভাস্বর হয়ে উঠেছে। ঊনিশ শতকীয় নবজাগরণের প্রভাবে ব্যক্তিস্বাতন্ত্রময়ী নারী তার স্বমহিমায় বিরাজিত হতে চেয়েছে। যে নারীকে অদৃষ্টে নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে হৃদয়পাশে বন্দিনী হয়ে – সেই নারী কবি মধুসূদনের অধিকাংশ কাব্য কবিতায় নায়িকা। ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্যে এগারোটি পত্রে এগারো জন নায়িকার প্রেমের যে বিচিত্র গতি প্রবাহিত সেখানে বিষয়বস্তুরও বৈচিত্র্য রয়েছে – কুমারীর ভীরু প্রেম, প্রিয়সঙ্গ লাভের জন্য কামাতুর প্রেম, দাম্পত্য প্রেম, সমাজ বহির্ভূত অবৈধ প্রেম যেখানে কোনো নারী প্রায় উন্মাদিনী তো আবার কখনো স্বর্গের নারী মর্ত্য মানবের প্রেমে পাগলপারা হয়ে ধরণীতে নেমে এসেছে।
Downloads
References
১. ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ, পথপ্রান্তে, বিচিত্রা প্রবন্ধ, পৃ. ৮৫
২. সিম্ফনি, ভূমিকা : সুকুমার ঘোষ
৩. ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ, সবলা, মহুয়া, পৃ. ১১২
৪. চট্টোপাধ্যায়, তপন কুমার, কবি মধুসূদন ও বীরাঙ্গনা কাব্য, প্রবন্ধ বিচিত্রা, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ, নভেম্বর ২০০৫, পৃ. ১৬৮
৫. তদেব, পৃ. ৮৯
৬. মজুমদার, উজ্জ্বল কুমার (সম্পাঃ), মধুসূদনের কেকয়ী : নারী নয়, বহ্নি, অচিন্ত্য বিশ্বাস, বীরাঙ্গনা কাব্যচর্চা, সোনার তরী, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ, নভেম্বর, ২০০৭, পৃ. ২১৬
৭. মজুমদার, উজ্জ্বল কুমার (সম্পাঃ), নীলধ্বজের প্রতি জনা : একালের নবপুরাণ, বীরাঙ্গনা কাব্যচর্চা, পৃ. ২৭৮ সোনার তরী, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ, নভেম্বর, ২০০৭, পৃ. ২৭৮

