অরুণ মিত্রের কবিতায় পুনরুক্তির প্রসাধন
Keywords:
- অরুণ মিত্র,
- কবিতা,
- শৈলী,
- মনস্তত্ত্ব,
- পুনরুক্তি,
- সংসক্তি
Abstract
কবিতার প্রতিটি শব্দ অপরিহার্য। তাই কবিতার শব্দের কোনো প্রতিশব্দ হতে পারে না। ‘Paradigmatic Choice’ - এর মধ্যে দিয়ে অনিবার্য শব্দগুলি পরপর বসে পড়লে তবেই তারা একসাথে একটি কবিতা হয়ে উঠতে পারে। এই কারনেই জ্ঞাপনের ভারে কবিতার যেমন স্বধর্মচ্যুতি ঘটে, তেমনি প্রকাশের গুপ্ত প্রকোষ্ঠে প্রবেশের অবারিত দ্বার তো তার-ই।
এমন সংবেদনশীল সাহিত্যের প্রকরনে যেখানে বাড়তি কথা তো বাদ-ই দিলাম, কথা বলবার-ই ভার দেওয়া দায়, সেখানে আপাতদৃষ্টিতে পুনরুক্তি তো অতিকথন বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু আমরা জানি কবিতার শরীরের প্রতিটি শব্দ থেকে ছেদ-যতি চিহ্ন পর্যন্ত সমস্ত অঙ্গে লুকিয়ে থাকে ব্যঞ্জনা। আর তাই নিছক পুনরুক্তির প্রয়োগ দীক্ষিত কবির হাত দিয়ে হওয়া অসম্ভব।
যেহেতু কবিতা উচ্চারন ছাড়া অসম্পূর্ণ, তাই শ্বাসাঘাতের ভিন্নতায় কবিতার একই বাক্য বা বাক্যাংশ সম্পূর্ণ আলাদা ভাবের প্রকাশ করতে পারে। আমাদের আলোচনায় এই পুনরুক্তি শুধু বাক্য বা বাক্যাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি আমরা অরুণ মিত্রের কবিতায় শব্দগত পুনরুক্তির তাৎপর্য বোঝবার ও চেষ্টা করেছি। এমনকি সমজাতীয় শব্দের ব্যবহারে প্রায় একই ভাবের পুনরুক্তিও আমাদের আলোচনার মধ্যে এসেছে। আর বাক্য বা বাক্যাংশগত কিংবা শব্দগত পুনরুক্তি উদ্ধৃত করে আমরা দেখেছি অরুণ মিত্র নিছক ভাবের উচ্ছ্বাসে একই বাক্য বা শব্দকে দুটি আলাদা সরণীতে দাঁড় করিয়ে ভিড় বাড়াননি। বরং স্বরক্ষেপনের ভিন্নতায় কিংবা শব্দার্থতাত্ত্বিক সম্পর্কের অনিবার্যতায় আভিধানিক অর্থের সীমাকে অতিক্রম করে বলিষ্ঠ ডানায় ভর দিয়ে উড়ান দিয়েছে প্রকাশের আকাশে। সেখানে সে কখনও হয়েছে বিবৃতি, কখনও বা স্বগতোক্তি, কখনও বা উপলব্ধি আবার কখনও বা বহন করে এনেছে অন্য কোনো তাৎপর্য।
আমরা এই প্রবন্ধে সচেতনভাবে বাদ রেখেছি ‘ধ্বনিগত’ বা ‘Syllable Centric’ পুনরুক্তির প্রসঙ্গ। আসলে আমাদের এই আলোচনা ধ্বনিতাত্ত্বিক নয়। তাই শব্দার্থতাত্ত্বিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এবং তাকেও কখনও কখনও অতিক্রম করে আমরা অরুণ মিত্রের নির্বাচিত কয়েকটি কবিতায় পুনরুক্তির বৈচিত্র্য এবং ভাবের প্রকাশে তার অসীম শক্তিকে ছুঁয়ে দেখবার চেষ্টা করেছি।
Downloads
References
১. মিত্র, অরুণ, কাব্যসমগ্র (প্রথম খণ্ড), প্রতিভাস, কলকাতা, ২০১০, পৃ. ২৬৯
২. দাশ, শিশির কুমার, গদ্য ও পদ্যের দ্বন্দ্ব, দে’জ পাবলিশিং, কলকাতা, ২০১৬, পৃ. ৩০
৩. Croft, Steven, Myers Robert, Exploring Language of Literature, Oxford University Press, London, 2000, P. 57
৪. মিত্র, অরুণ, কাব্যসমগ্র (প্রথম খণ্ড), প্রতিভাস, কলকাতা, ২০১০, পৃ. ২৭১
৫. পূর্বোক্ত, পৃ. ২৭১
৬. পূর্বোক্ত, পৃ. ২৭১
৭. পূর্বোক্ত, পৃ. ৯০
৮. পূর্বোক্ত, পৃ. ৯০
৯. পূর্বোক্ত, পৃ. ৯৫, ৯৬
১০. পূর্বোক্ত, পৃ. ১৪৭, ১৪৮
১১. পূর্বোক্ত, পৃ. ১৫১, ১৫২
১২. পূর্বোক্ত, পৃ. ২৯৩, ২৯৪
১৩. পূর্বোক্ত, পৃ. ৯১
১৪. পূর্বোক্ত, পৃ. ২০৪
১৫. পূর্বোক্ত, পৃ. ৯৩
১৬. পূর্বোক্ত, পৃ. ৯৩
১৭. পূর্বোক্ত, পৃ. ৯৩
১৮. পূর্বোক্ত, পৃ. ২৬২
১৯. পূর্বোক্ত, পৃ. ৯৬, ৯৭, ৯৮
২০. পূর্বোক্ত, পৃ. ৯৭
২১. গুহ, চিন্ময় (সম্পাঃ) প্রবন্ধ সংগ্রহ ২, অরুন মিত্র, গাঙচিল, কলকাতা, ২০১৪, পৃ. ১২৯
২২. মিত্র, অরুণ, কাব্যসমগ্র (প্রথম খণ্ড), প্রতিভাস, কলকাতা, ২০১০, পৃ. ৪১
২৩. পূর্বোক্ত, পৃ.১১৬, ১১৭
২৪. পূর্বোক্ত, পৃ.১৬৬
২৫. পূর্বোক্ত, পৃ.১৩৩, ১৩৪
২৬. পূর্বোক্ত, পৃ. ২৯৩, ২৯৪
২৭. Jeffries, Lesley, McIntyre Dan, Stylistics, Cambridge University Press, New York, 2010, P. 85

