সুন্দরবনের শ্রমজীবী নারীদের সংগ্রাম : প্রসঙ্গ ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায়ের ছোটোগল্প
Keywords:
- নোনা গাঙ,
- সুন্দরবন,
- দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা,
- মরশুমের জীবিকা,
- প্রান্তিক নারী,
- পরিত্যক্তা ও বিধবা নারী,
- পরিযায়ী নারী
Abstract
কথাসাহিত্যিক ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার জনজীবন ও সংস্কৃতিকে ধ্রী কেন্দ্রে রেখে সাহিত্য রচনায় মনোযোগী হয়েছেন। ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ডায়মন্ড হারবারে ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। এখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা এবং এখানেই তিনি কর্মজীবন শুরু করেন ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে। কর্মসূত্রে তাঁকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বিভিন্ন অঞ্চলে যেতে হয়েছে বিভিন্ন সময়। ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় তাঁর চোখে দেখা ঘটনাকেই অবলম্বন করেছেন সাহিত্যে। ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় এখনও পর্যন্ত দুশোর বেশি ছোটোগল্প এবং চোদ্দটি উপন্যাস লিখেছেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগণাকে অবলম্বন করে। ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় ছোটোগল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল- বাস্তবতার উলঙ্গ রূপ খুঁজে বের করা। তাঁর গল্পে দেখা যায় মানুষের জীবনব্যবস্থার নিঁখুত প্রতিচ্ছবি। চট্টোপাধ্যায় গল্পের চরিত্ররা প্রায় প্রত্যেকেই নিম্নশ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেছে। ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় এই মানুষগুলির জীবনব্যবস্থাকে দেখাতে গিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহের দিকটিকে তুলে ধরেছেন অর্ধশতাধিক গল্পে। ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় গল্পে জীবিকা একটা বড়ো স্থান জুড়ে আছে। তাঁর গল্পের পাত্র-পাত্রীদের জীবিকা অর্জনের দিকগুলি পাঠককে আকর্ষণ করবে নিঃসন্দেহে। ব্যাং, হাড়, ডিম, কাঁকড়া, মধু, কাঠ, জ্বালানি কাঠ, মাছ প্রভৃতি ব্যবসা করে দিনাতিপাত করে বাদা অঞ্চলের মানুষেরা। ‘তাতারসি’, ‘জলঘড়ি’, ‘চরবুড়ো’, ‘নুন’, ‘তেলমাসি’, ‘কলকাতার পাহাড়’, ‘রাত প্রহরী’, ‘বাসন্তীর পাঁচালি গানে নতুন পালা’ ইত্যাদি গল্পগুলিতে ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় জীবিকা নির্বাহের এক নতুন দিগন্তকে দেখিয়েছেন। যে জীবিকা পদ্ধতির কথা অনেক মানুষের প্রায় অজানা। ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় সেই সব জীবিকাকেই দেখিয়েছেন তাঁর গল্পগুলির ভেতর। ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতাকে অবলম্বন করে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার মানুষের জীবন ও জীবিকাকে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন তা এককথায় অনবদ্য।
ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় তাঁর ছোটোগল্পে নারী-পুরুষের যৌথ মিথস্ক্রিয়াকে দেখিয়েছেন। সুন্দরবন অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের ভেতর নারী-পুরুষের বৈষম্যকে গল্পকার কোথাও দেখাননি। তবে নারী-পুরুষের স্বভাবধর্মকে আবার আড়ালও করেননি। ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায়ের গল্পের নারী চরিত্ররা প্রায় প্রত্যেকেই হয় বিধবা, না হয় স্বামী পরিত্যক্তা। তাই বাধ্য হয়ে এই নারীদেরকে নিজেদের সংসার পরিচালনার জন্য বেরোতে হয় সমাজের অন্দরমহল থেকে। ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায়ের গল্পে দেখা যায় নারীরা কোনো সময়েই তাদের সংসারের উপর বোঝা হয়ে যায় নি। তারা নিজেদের প্রয়োজন যেমন নিজেরাই মিটিয়েছে, সেই সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সেই হিসেবে ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায়ের গল্পের নারীরা কারোর প্রতি নির্ভর নয়, বরং সমাজের একটা অংশ তাদের উপর আস্থা রাখতে বাধ্য হয়েছে।
Downloads
References
১. চট্টোপাধ্যায়, ঝড়েশ্বর. শ্রেষ্ঠ গল্প, কলকাতা, দে’জ পাবলিশিং, প্রথম প্রকাশ, ২০০৪, পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত দ্বিতীয় সংস্করণ, ২০১৯. পৃ. ২৫
২. চট্টোপাধ্যায়, ঝড়েশ্বর. ‘রমণী ও পুরুষ’, কলকাতা, দে’জ পাবলিশিং, প্রথম প্রকাশ, ২০১৪. পৃ. ১০
৩. তদেব, পৃ. ১৪
৪. চট্টোপাধ্যায়, ঝড়েশ্বর. ‘কাঠকুটো’, কলকাতা, দে’জ পাবলিশিং, প্রথম প্রকাশ, ২০১৮. পৃ. ২৩৭
৫. চট্টোপাধ্যায়, ঝড়েশ্বর. স্বজন প্রিয়জন, কলকাতা, সোপান, প্রথম প্রকাশ, পৃ. ৮০
৬. চট্টোপাধ্যায়, ঝড়েশ্বর. ‘সেরা ৫০ টি গল্প’, কলকাতা, দে’জ পাবলিশিং, প্রথম প্রকাশ, ২০১১. পৃ. ২৮৬
৭. তদেব, পৃ. ২৪৩

