মহাকালের খাঁড়া : নকশাল প্রেক্ষিত ও আখ্যানতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ/ Mahakaler khara : nakshal preckheet o akkhyantateek vishleshan

Authors

  • Suchita Singh এম. ফিল, বাংলা বিভাগ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় Author

Keywords:

  • পশ্চিমবঙ্গ,
  • নকশাল আন্দোলন,
  • উদ্বাস্তু সমস্যা,
  • মুক্তিযুদ্ধ

Abstract

কথাসাহিত্যিক কায়েস আহমেদ পশ্চিমবাংলার হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করে দেশভাগের ফলে শিকড় ছেঁড়ার যন্ত্রণা নিয়ে থিঁতু হয়েছিলেন ঢাকা শহরে, আর ফেরা হয়নি। ফেরা না ফেরার দ্বন্দ্বই তাঁর কলমের ডগায় স্থান করে নিয়েছিল। যার ফসল অন্ধ তীরন্দাজ (১৯৭৮), লাশকাটা ঘর (১৯৮৭), নির্বাসিত একজন (১৯৮৬), দিনযাপন (১৯৮৬) প্রভৃতি আখ্যান। লাশকাটা ঘর গল্পে নাগরিক জীবনের নিত্য দিনের অভাব মানুষের মনে কতটা ক্ষতের সৃষ্টি করে তার প্রমাণ কালীনাথ। ক্ষতের মধ্যে আরামের প্রলেপ দিতেই কালীনাথ শেষরাতে সদর দরজা খুলে অন্ধকারে হারিয়ে যেতে চায়। অন্ধ তীরন্দাজ গল্পে কয়েকজন হতাশাগ্রস্থ যুবকের কাজ নেই, জমি নেই, খাবার নেই অথচ রয়েছে ঘরে মা বাবা স্ত্রী সন্তান। জীবন নির্বাহের কোনো অবলম্বন নেই। যাদের চোখে শুধুই স্বপ্ন। তাই সগু, পচা, নিতাই অভাবে স্বভাব নষ্ট করে রেশনের মাল পাচার শুরু করে। মহাকালের খাঁড়া গল্পে ভরত কোলের জীবনের অন্তিম পরিণতি ঘটে ছেলে সুরেনের মধ্য দিয়ে।

কায়েস আহমেদের প্রত্যেকটি রচনাই সত্তরের দশকের গতানুগতিক ন্যারেটিভ ফর্মকে ভেঙ্গে তৈরি করেছিল আখ্যানের নতুনত্ব। সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক দিকের সঙ্গে মানুষ কতটা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, সেটাই মূলত তিনি দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নকশাল আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তুলে ধরেছেন। বিরামহীন ট্রেনের গতির মতোই মানুষের জীবনের গতিকে বর্তমান সময়ের আবহে সম্বল করে বিলিয়ে দিয়েছেন পাঠকের মাঝে। এভাবেই কায়েস আহমেদ আমাদের নিয়ে যান বাস্তবের কুহকময় জগতে।

বাংলা ছোটোগল্পের বৃত্ত-পরিধি প্রসারে কায়েস আহমেদ ব্যতিক্রমী শিল্পী স্রষ্টা। বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে ভিন্ন প্রকরণ কৌশলে নিজের বিশেষত্ব প্রমাণ করেছেন। লেখকের বয়ান থেকেই এই ধারণা স্পষ্ট হয়ে ওঠে-

১৯৭০-পরবর্তী বাংলাদেশ তো আর আগের মতো নেই, এতো বিচিত্র ওলট-পালট আগের মতো থাকতে পারে না। এই পরিবর্তিত বাস্তবতাকে ধরতে নতুন আঙ্গিকেই ধরতে হবে। কিন্তু নতুন আঙ্গিকে ধরতে হলে প্রথমেই চিনতে হবে এই বাস্তবতার স্বরূপটিকে, তাকে যদি যথাযথভাবে সনাক্ত করা যায়, তখনই আসবে তাকে ধরার কলা-কৌশলের প্রসঙ্গটি।

এই বক্তব্যের দ্বারাই স্পষ্ট হয় তাঁর মানসলোক ভিন্ন পথ অনুসন্ধানী। নিম্ন মধ্যবিত্ত জীবনের স্পষ্ট নগ্নতার দিকে আঙ্গুল তুলেছিলেন তাঁর আখ্যানের মধ্য দিয়ে। তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আখ্যানভাবনা কতটা গ্রহণযোগ্য তা মহাকালের খাঁড়া গল্প অবলম্বনে অনুসন্ধানই বর্তমান প্রবন্ধের লক্ষ্য। আলোচ্য দিক বিবেচনায় কায়েস আহমেদের গল্প বিশ্লেষণ ও নিরীক্ষণ করা যেতে পারে।

Downloads

Download data is not yet available.

References

১. ইলিয়াস, আখতারুজ্জামান, গল্পকথা, ‘মরিবার হলো তাঁর সাধ’, রাজিয়া খান ও কায়েস আহমেদ যৌথ সংখ্যা, বর্ষ ৮ সংখ্যা ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি, ঢাকা, ২০১৮, পৃ. ৩৫৬

২. আহমেদ, কায়েস, কায়েস আহমেদ সমগ্র, মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা, প্রকাশ- ২০১৪, পৃ. ১২৬

৩. পূর্বোক্ত, পৃ. ১২৭

৪. পূর্বোক্ত, পৃ. ১২৮

Downloads

Published

2023-07-05

Issue

Section

Articles

How to Cite

মহাকালের খাঁড়া : নকশাল প্রেক্ষিত ও আখ্যানতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ/ Mahakaler khara : nakshal preckheet o akkhyantateek vishleshan. (2023). TRISANGAM INTERNATIONAL REFEREED JOURNAL, 3(3), 212 – 217. https://tirj.org.in/tirj/article/view/969