প্রতিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন প্রসঙ্গে মানিক : এক টুকরো ঐতিহাসিক অবলোকন
Keywords:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়,
- প্রতিরোধ আন্দোলন,
- হারানের নাতজামাই,
- তেভাগা আন্দোলন
Abstract
এক অনন্য সাধারণ সৃষ্টি ক্ষমতায় অধিকারী ছিলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। জ্যৈষ্ঠের খররৌদ্বের মতো যুক্তিবাদী ও সংস্কার মুক্ত ছিলেন তিনি। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন পিতামাতার অষ্টম সন্তান (চতুর্থ পুত্র)। জন্ম হয়েছিল ১৯০৮ বাংলা ১৩১৫ বঙ্গাব্দ ১৯মে বাংলা ৬ জ্যৈষ্ঠ। জন্ম স্থান সাঁওতাল পরগণার দুমকা শহর। পিতা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন সে সময় দুমকার অ্যাসিস্ট্যান্ট সেট্লমেন্ট অফিসার। বড়দাদা সুধাংশুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনে শিক্ষারম্ভ ঘটে। চাকরির সুবাদে বড়দাদা অন্যত্র বদলি হয়ে গেলে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় টাঙ্গাইলে পিতার কর্মস্থলে চলে আসেন। শহুরে জীবন থেকে মুক্ত মানিক প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠেন। উদ্দাম দুরন্ত স্বভাব, বাঁধভাঙা কৈশোর হাটে মাঠে বাটে কেটে যেতে থাকে কখনো উদাত্ত গলায় গান গেয়ে কখনো বা বাঁশি বাজিয়ে। জীবন গঠনের জন্য প্রয়োজন মানুষের সঙ্গে নিবিড় বন্ধন গড়ে তোলা। মানুষের প্রতি একান্ত দরদী শিল্পী মানিক কৈশোরে মাঝি - মাল্লা ঘোড়ার গাড়ির গাড়োয়ান প্রভৃতি সাধারণ সফলের সঙ্গে মিলে মিশে জড়িয়ে ছিলেন। তাঁর মনোজগতের প্রচ্ছদপট এদের উপস্থিতিতে গড়ে উঠেছিল। মাতা নীরদাসুন্দরী দেবী প্রয়াণে মানিকের জীবনের ছন্দপতন ঘটে। ছন্নছাড়া হয়ে যায় বিদ্যালয় জীবন। ঘনঘন বদল হতে থাকে বাসস্থান ও বিদ্যালয়। কখনো সেজদাদা, কখনো বড়দিদির শ্বশুরবাড়ি। কৈশোরের এই অস্থায়ীত্বের বিড়ম্বনা মনের মধ্যে এনে দিল বিষণ্ণতা ও নিরাপত্তা হীনতা।
Downloads
References
১. মুখোপাধ্যায়, ড. বিমলকুমার, মার্কসীয় সাহিত্যতত্ত্ব, দে’জ, কলকাতা, পৃ. ৩১
২. দেবী, মহাশ্বেতা, রচনা সমগ্র ১১, দে’জ, পৃ. ৫১৮
৩. বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক, রচনা সমগ্র, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, পৃ. ১৬১
৪. চন্দ্র, বিপান, আধুনিক ভারত : ঔপনিবেশিকতাবাদ ও জাতীয়তাবাদ।
৫. চৌধুরী, দর্শন, গণনাট্য আন্দোলন, অনুষ্টুপ, কলকাতা, পৃ. ১১
৬. ঐ, পৃ.১১
৭. মুখোপাধ্যায়, অরুণকুমার, বাংলা সমালোচনার ইতিহাস, পৃ. ১৮-১৯
৮. ঐ, পৃ-২২১
৯. চৌধুরী, দর্শন, গণনাট্য আন্দোলন, পৃ. ১৪০
১০. পাল, চিত্তরঞ্জন (সম্পাদিত), তেভাগার নারী, র্যাডিক্যাল, কলকাতা, পৃ. ২৮
১১. দত্ত, অম্লান, শতাব্দীর প্রেক্ষিতে আর্থিক বিকাশ, অর্থনীতি গ্রন্থমালা, পৃ. ৭৫-৭৬
১২. ঐ, পৃ. ৭১

