অসমের নির্বাচিত বাংলা উপন্যাসে দেশভাগ ও উদবাস্তু সমস্যা
Keywords:
- দেশভাগ,
- দাঙ্গা,
- উদবাস্তু সমস্যা,
- শরনার্থী,
- বরাক উপত্যকা,
- ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা
Abstract
দেশভাগ ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক চরম বিপর্যয়ের ঘটনা। এই বিভাজনের মর্মান্তিক পরিণতিতে অখন্ড ভারতভূমি খন্ডিত হয়ে যায়। সেই সঙ্গে খন্ডিত হয় ভারতের ভূগোল, সমাজ, সংস্কৃতি, সম্প্রীতি, ঐতিহ্য ও পারস্পরিক বন্ধন। সর্বোপরি মানুষের অন্তর্জীবন ও বহির্জীবনে তৈরি হল এক গভীর সংকট। ইতিহাসে এই ঘটনা মানবজীবনের ট্রাজিক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। ভারতবর্ষের এই বিভাজনের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছিল পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে অর্থাৎ পাঞ্জাব, বাংলা ও অসমের ওপর। এই তিনটি অঞ্চলে দেশভাগের কিছু মৌল পার্থক্য আছে। তবে, বিভাজনের কবলে পড়া এই অঞ্চলগুলিকে কেন্দ্র করে দেশভাগ এবং উদবাস্তু সমস্যার যে ইতিহাস রচিত হয়েছে তার মধ্যে প্রত্যকটি অঞ্চলের কিছু স্বতন্ত্রতা রয়েছে। সেদিক থেকে অসমের দেশভাগের ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা লক্ষ করা যায়। কারণ, জনমত হোক বা ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা নির্ধারণ হোক কিংবা অন্য কোনও সমস্যাই হোক দেশ বিভাজনের জন্য অন্য আর কোথাও গণভোটের পথ অবলম্বন করা হয়নি। গণভোটের মাধ্যমে অসমের বিভাজনের ফলে যে ছিন্নমূল উদবাস্তু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা বাঙালি জীবনকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্বদেশের ভিটেমাটি, জমি, অর্থসম্পদ, ঘরবাড়ি, চেনাপরিবেশ ইত্যাদি সমস্ত কিছুকে হারিয়ে অসংখ্য মানুষ সেদিন উদবাস্তু হয়েছিল। সেই সময় কত যে বাঙালি মানুষ উদবাস্তু হয়ে ভারতে এসেছিল তার সঠিক হিসেব পাওয়া দুষ্কর। তবে জনগননা ও সরকারি বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায় এখন পর্যন্ত তিন কোটির ওপর বাঙালি মানুষ উদবাস্তু হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। এই উদবাস্তু মানুষেরা কীভাবে নানা প্রতিকূল পরিবেশে, আত্মীয়-স্বজনকে হারিয়ে শত দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণা বুকে নিয়ে বেঁচে থাকার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যান তা এককথায় অনভিপ্রেত। এই অঞ্চলের কথা সাহিত্যিকদের লেখায় সেই চিত্র বাস্তবভাবে ফুটে ওঠে।
Downloads
References
১. চক্রবর্তী, মহাদেব, ‘উত্তর-পূর্ব ভারত সেদিন ও আজ’ (প্রথম খন্ড), প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স, প্রথম প্রকাশ
মার্চ ২০০৫, কলকাতা, পৃ. ৩৮
২. বর্মন, প্রসূন, ‘দেশভাগ-দেশত্যাগ প্রসঙ্গ উত্তর-পূর্ব ভারত’, গাঙচিল, প্রথম প্রকাশ মে২০১৩, কলকাতা,
পৃ. ১৩০-১৩১
৩. মন্ডল, মননকুমার, ‘পার্টিশন সাহিত্য দেশ-কাল-স্মৃতি’, গাঙচিল, প্রথম প্রকাশ ২০১৪, কলকাতা, পৃ. ৩০২
৪. দাশ, শেখর, ‘বিন্দু বিন্দু জল’, স্রোত প্রকাশনা, স্রোত সংস্করণ ২০১৯, ত্রিপুরা, পৃ. ৯৪
৫. তদেব, পৃ. ১৩-১৪
৬. দাশ, শেখর, ‘বিন্দু বিন্দু জল’ অমৃতলোক সাহিত্য পরিষদ, প্রথম প্রকাশ ২০০৪, কলকাতা, পৃ. ৫৩
৭. দাশ, শেখর, ‘বিন্দু বিন্দু জল’, স্রোত প্রকাশনা, স্রোত সংস্করণ ২০১৯, ত্রিপুরা, পৃ. ৯২
৮. পুরকায়স্হ, রণবীর, ‘সুরমা গাঙর পানি’, একুশ শতক, প্রথম প্রকাশ অক্টোবর ২০১২, কলকাতা, পৃ. ২১০
৯. তদেব, পৃ. ২১০
১০. তদেব, পৃ. ১৩
১১. তদেব, পৃ. ১৫৮
১২. তদেব, পৃ. ৩৪৪
১৩. বুলবুল, ইমাদ উদ্দিন, ‘সুরমা নদীর চোখে জল’, নতুন দিগন্ত প্রকাশনী, প্রথম প্রকাশ ২০১৩, শিলচর,
পৃ. ১৯
১৪. তদেব, পৃ. ১৮
১৫. তদেব, পৃ. ১৫
১৬. দাশ, অতীন, ‘বিদায় জন্ম ভূমি’, সোপান পাবলিশার্স, প্রথম সংস্করণ ২০১২, কলকাতা, পৃ. ২৮
১৭. দেব, দেবব্রত (সম্পাদক), ‘মুখাবয়ব’, বিশেষ উপন্যাস সংখ্যা-১, ৩০বর্ষ, ৩-৪ সংখ্যা, মাঘ- চৈত্র ১৪২০,
পৃ. ৫৯
১৮. তদেব, পৃ. ৯১
১৯. দত্ত, কুমার অজিত, যুগলবন্দি, ‘ভিটেমাটি’ ও ‘বেদুইন’, বিকাশ প্রকাশন, প্রথম প্রকাশ, ২০১৭, পৃ. ৭
২০. তদেব, পৃ. ১১৩
২১. দেব, সমর, ‘লোহিতপারের উপকথা’, ভিকি পাবলিশার্স, প্রথম সংস্করণ ২০১০, গুয়াহাটি, পৃ. ৯
২২. তদেব, পৃ. ১১
২৩. তদেব, পৃ. ১৬
২৪. তদেব, পৃ. ১৭
২৫. চৌধুরী, মুক্তি, ‘সেই তো আমার আমি’, প্রতিভাস, প্রথম প্রকাশ ২০১৩, কলকাতা, পৃ- প্রচ্ছেদ অংশ।

