উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সমাজের বাৎসরিক কৃষিকেন্দ্রিক সংস্কৃতি
Keywords:
- ভান্ডানি,
- বিষুয়া,
- গছাদেওয়া,
- তিস্তা বুড়ি,
- গোচরপুনা,
- নয়া খই
Abstract
উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সমাজের প্রধান পেশা কৃষিকাজ। এই কৃষিকাজ বা চাষবাসে রাজবংশী সমাজের বাড়ীর বেশিরভাগ সদস্যরাই কম বেশি যোগদান করে থাকেন। আর যাদের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল তারা হাজিরা লোক দিয়ে চাষবাস করান। আর এই কৃষিকাজকে ঘিরে তৈরি হয় রাজবংশীদের আশা-ভরসা-স্বপ্ন। বর্তমানে রাজবংশীরা কৃষিকাজ করে সেই ভাবে লাভের মুখ না দেখায় তারা অন্য পেশায় প্রবেশ করছে। তবে গ্ৰামে এমন রাজবংশী কৃষক আছে যাদের এই পেশা ছাড়া অন্য উপায় নেই। অপরদিকে ভূমিহীন রাজবংশীরা কাজের সন্ধানে বাইরে চলে যাচ্ছে। উত্তরবঙ্গে বন্যা, খরা প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষিকাজে বাধার সৃষ্টি করে। এসব বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও বৈশাখ মাস থেকে শুরু করে বছরের শেষ চৈত্র মাস পর্যন্ত নানা ধরনের চাষবাস করে থাকে রাজবংশীরা। উত্তরবঙ্গের রাজবংশীদের মধ্যে কৃষিকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের পূজা-পার্বণ, উৎসব, মেলা লক্ষ্য করা যায়। এই আধুনিক যুগ তথা বিশ্বায়নের যুগেও রাজবংশীরা তাদের কৃষিকেন্দ্রিক সংস্কৃতিকে ধরে রেখেছে। সুখ দুঃখের মাঝেও রাজবংশীরা গান, অভিনয় ইত্যাদি চর্চা করে। রাজবংশীরা কৃষির উন্নতির জন্য নানা ধরনের কৃষিকেন্দ্রিক পূজা-পার্বণ করেন।। রাজবংশীদের কৃষিকেন্দ্রিক পূজা গুলো উত্তরবঙ্গের আট জেলা (কোচবিহার, আলিপুরদূয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর) ছাড়াও আসাম, নেপাল, মেঘালয়, বাংলাদেশে দেখা যায়। আলোচ্য প্রবন্ধে উত্তরবঙ্গের কৃষিকেন্দ্রিক পুজা পার্বণ তথা রাজবংশীদের কৃষিকেন্দ্রিক সংস্কৃতি্র একটা সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব।
Downloads
References
১. বর্মা, দিলীপ, লোকদেবতার ঐতিহ্য, ভান্ডানি, মাসান ও মাশান, জলপাইগুড়ি জেলা সার্ধশতবার্ষিকী স্মারক গ্ৰন্থ (১৮৬৯-২০১৯), সম্পাদনা উমেশ শর্মা-কৃষ্ণেন্দু দত্ত-বাবলু রায়-কৃষ্ণেন্দু রায়, পৃ. ৪০১
২. শর্মা, উমেশ, তরাই ডুয়ার্সের পূজা পার্বণ,তরাই-ডুয়ার্সের লোকসংস্কৃতি, ২০১৮ সম্পাদনা, আব্দুল রহিম গাজি, পৃ. ৪২২
৩. রায়, ড.গিরিজা শঙ্কর, উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সমাজের দেবদেবী ও পূজা পার্বণ, গবেষণা পত্র, ১৯৭৫, পৃ. ৫১
৪. রায়, ড. দীপক কুমার, রাজবংশী সমাজ আরো সংস্কৃতির কাঁথা,২০১২, পৃ. ৪৬
৫. রায়, ড. গিরিজা শঙ্কর, উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সমাজের দেবদেবী ও পূজা পার্বণ, পৃ. ১৩৬
৬. প্রধান, অশোক রায়, ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে উত্তরবঙ্গ ও রাজবংশী, ২০০৬, পৃ. ১০৫-১০৬
৭. সামাট, নারায়ণ, বাংলার সংস্কৃতি: লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায়,২০১৮, পৃ. ৫০১-৫০২
৮. রায়, জিতেশ চন্দ্র, রাজবংশী ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রেক্ষিত উত্তরবঙ্গ, ২০২১, পৃ. ৫৭

