বিশ্বম্ভর দাসের জগন্নাথমঙ্গলে লোক-সংস্কৃতির উপাদান

Authors

  • Avijit Pal ছাত্র, বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় Author

Keywords:

  • বিশ্বম্ভর দাস,
  • জগন্নাথমঙ্গল,
  • লোক-সংস্কৃতি,
  • মঙ্গলকাব্য,
  • অপ্রধান মঙ্গলকাব্য,
  • জগন্নাথদেব

Abstract

প্রাগাধুনিক বাংলা সাহিত্যের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় সাহিত্যধারা মঙ্গলকাব্য। আনুমানিক পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত বাংলা ভাষায় মঙ্গলকাব্য রচিত হয়েছে। এমনকি ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও কয়েকজন কবি মঙ্গলকাব্য লেখার প্রয়াস করেছিলেন। বাংলা মঙ্গলকাব্যের ধারার শেষ ভাগের অর্থাৎ অষ্টাদশ শতাব্দীর অন্যতম নিভৃতচারী জনপ্রিয় কবি বিশ্বম্ভর দাস। তিনি বাংলা মঙ্গলকাব্যের প্রচলিত ছাঁচে ফেলে পুরীর জগন্নাথদেবের পুরাণ প্রসিদ্ধ মঙ্গলকথা লিখে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। কোনো রাজানুগ্ৰহ ছাড়া শুধুমাত্র গুরুদেবের আজ্ঞাবহ হয়ে সাধারণ বাঙালির উপযোগী সহজ বোধগম্য ভাষায় জগন্নাথের মঙ্গলকথা প্রচার করতে চেয়েছিলেন কবি বিশ্বম্ভর দাস। আর এই প্রয়াসকে সফল করে তুলতে তিনি তাঁর জগন্নাথমঙ্গল কাব্যে বাংলার লোক-সংস্কৃতির একাধিক উপাদানকে অনায়াসে ব্যবহার করেছিলেন। অবশ্য একথাও ঠিক, যে সময়ে কবি বিশ্বম্ভর দাস জগন্নাথমঙ্গল রচনা করেছিলেন তখন পাশ্চাত্যে লোক-সংস্কৃতির তত্ত্ব ও উপকরণ নিয়ে চর্চা শুরুই হয়নি। বাঙালি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা রয়েছে, সংস্কার রয়েছে, সংস্কৃতি রয়েছে, আচার-অনুষ্ঠান, গণ-বিশ্বাস, নীতি-নিয়ম, প্রথা রয়েছে এবং এগুলির সবই মূলত বাঙালি জনগোষ্ঠীর বলয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ বা প্রচলিত রয়েছে বহু প্রজন্ম ধরে। আর বাঙালি সমাজ বা জনগোষ্ঠীর থেকে উদ্ভূত এবং এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে উত্তরাধিকার পরম্পরায় প্রবাহিত বিভিন্ন প্রকরণ থেকে কবি বিশ্বম্ভর দাস সংগ্রহ করেছিলেন বাংলার লোকসংস্কৃতির অজস্র লোক-উপাদান। প্রকৃতিগত ভাবে বাঙালির নিজস্ব লোক-সংস্কৃতির উপাদানগুলি বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। যেমন— বাক্‌কেন্দ্রিক, বস্তুকেন্দ্রিক, আচার-ব্যবহারকেন্দ্রিক, লিখনকেন্দ্রিক, অঙ্গভঙ্গিকেন্দ্রিক, বিনোদন ও ক্রীড়া কেন্দ্রিক ইত্যাদি। কবি বিশ্বম্ভর দাস তাঁর জগন্নাথমঙ্গল কাব্যে যে সমস্ত লোক-সংস্কৃতির উপাদান জড়ো করেছেন তার অধিকাংশই কবির ব্যক্তিগত জীবন-অভিজ্ঞতা ও পাঠ-অভিজ্ঞতার সূত্রে পাওয়া। কবি বিশ্বম্ভর দাসের জগন্নাথমঙ্গল কাব্যের প্রধান আখ্যান অংশটি স্কন্দপুরাণের বিষ্ণুখণ্ডের অন্তর্গত পুরুষোত্তমমাহাত্ম্য-এর অনুসারী হলেও কাব্য রচনার সময় কবির প্রধান প্রচেষ্টা ছিল পৌরাণিক জগন্নাথ-কাহিনিকে বাংলার জগন্নাথ উপাসনার সঙ্গে মিলিত যেন করে দেওয়া যায়। কবি বিশ্বম্ভর দাস বাংলার লোকায়ত সমাজের বহুবিধ অনুসঙ্গ বারবার তুলে ধরেছেন জগন্নাথমঙ্গলের বিভিন্ন অংশে। কবির এই সচেতন ও সুসম প্রয়াসের জন্যই উৎকলেশ্বর জগন্নাথের পৌরাণিক কাহিনি সম্বলিত জগন্নাথমঙ্গলে লোক-সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদানগুলি অবাঞ্ছিত হয়নি। কবি বিশ্বম্ভর দাস তাঁর জগন্নাথমঙ্গল কাব্যে যে সমস্ত লোক-সংস্কৃতির উপাদান জড়ো করেছেন তার অধিকাংশই কবির ব্যক্তিগত জীবন-অভিজ্ঞতা ও পাঠ-অভিজ্ঞতার সূত্রে পাওয়া। কবি বিশ্বম্ভর দাসের এই অনন্য প্রয়াসের জন্য সমগ্র মধ্যযুগীয় সাহিত্যের বৃত্তে জগন্নাথমঙ্গল অনায়াসে হয়ে উঠতে পেরেছে সর্বস্তরের বাঙালির উপভোগ্য কাব্য এবং বিশ্বম্ভর দাস হয়ে উঠেছেন একজন কালোত্তীর্ণ যশস্বী কবি।

Downloads

Download data is not yet available.

References

১. Bauman, Richard, “Differential Identity and the Social Base of folklore”, Journal of

Folklore, Vol. 84, No. 331, 1971, p. 33

২. দাস, বিশ্বম্ভর, ‘জগন্নাথ-মঙ্গল’, প্রথম সংস্করণ, গুপ্ত প্রেস, কলিকাতা, ১৯০৫, পৃ. ২১

৩. তদেব, পৃ. ৫১

৪. তদেব, পৃ. ২৪

৫. তদেব, পৃ. ৯৬-৯৭

৬. তদেব, পৃ. ১৩৫

৭. তদেব, পৃ. ৫৮

৮. তদেব, পৃ. ৬৫-৬৬

৯. তদেব, পৃ. ১০৯

১০. তদেব, পৃ. ১২৯

১১. তদেব, পৃ. ৩৭

১২. তদেব, পৃ. ৩৯

১৩. চক্রবর্তী, জাহ্নবীকুমার, ‘চর্যাগীতির ভূমিকা’, দ্বিতীয় সংস্করণ, ডি. এম. লাইব্রেরি, কলকাতা, ২০০৫, পৃ.

২২২

১৪. দাস, বিশ্বম্ভর, ‘জগন্নাথ-মঙ্গল’, পৃ. ৩১

১৫. তদেব, পৃ. ৩০

১৬. তদেব, পৃ. ২৪

১৭. তদেব, পৃ. ২৪

১৮. তদেব, পৃ. ২৪, ৩৪

১৯. তদেব, পৃ. ৯৬

২০. তদেব, পৃ. ৯৬

২১. তদেব, পৃ. ১৮

২২. তদেব, পৃ. ৫১, ১৭

২৩. তদেব, পৃ. ৩৫

২৪. তদেব, পৃ. ১১৭, ১৫৫

২৫. তদেব, পৃ. ১৫৫

২৬. তদেব, পৃ. ২৪

২৭. তদেব, পৃ. ১০৩

২৮. তদেব, পৃ. ১০২, ১২০

২৯. তদেব, পৃ. ১০৪

৩০. তদেব, পৃ. ৫৪

৩১. তদেব, পৃ. ৮৬

৩২. তদেব, পৃ. ১০৯

৩৩. তদেব, পৃ. ৬৪

৩৪. তদেব, পৃ. ৭৫

৩৫. তদেব, পৃ. ৭৮

৩৬. তদেব, পৃ. ৩৭

৩৭. তদেব, পৃ. ৬৬

৩৮. তদেব, পৃ. ৪৭

৩৯. তদেব, পৃ. ৫৩

৪০. তদেব, পৃ. ৩৩

Downloads

Published

2023-07-05

Issue

Section

Articles

How to Cite

বিশ্বম্ভর দাসের জগন্নাথমঙ্গলে লোক-সংস্কৃতির উপাদান. (2023). TRISANGAM INTERNATIONAL REFEREED JOURNAL, 3(3), 357 – 368. https://tirj.org.in/tirj/article/view/989