পারিবারিক পরিসরে কর্ম বিভাজন এবং ব্যক্তি স্বাধীনতা
Keywords:
- জৈবিক,
- প্রকৃতি-প্রতিপালন বিতর্ক,
- সমাজ জীববিজ্ঞানী,
- কার্যকারিতাবাদী,
- পিতৃতন্ত্র,
- যৌন পরিচয়,
- লিঙ্গ পরিচয়
Abstract
ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যেকার সম্পর্কটিকে অনুধাবন করতে হলে ‘পরিবার’ নামক সামাজিক প্রতিষ্ঠানটি বিষয় ধারণা থাকা আবশ্যক। ব্যক্তির সামাজিকীকরণের প্রথম ধাপ হল পরিবার। পরিবারের মধ্যে দিয়ে ব্যক্তি সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে। অ্যারিস্টটল থেকে শুরু করে আধুনিক সমাজবিদ্যার অন্যতম ব্যক্তিত্বরাও বারবারই মানব জীবনে পরিবারের গুরুত্বকে স্বীকার করেছেন। পরিবার একটি পরিবর্তনের ধারা। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমাজে পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানটির বিবর্তন ঘটেছে। পরিবারের এই বহুমুখীন চরিত্রটির কারণে সমাজতাত্ত্বিক থেকে নৃতাত্তিকরা বারবারই পরিবারের একটি সর্বজন সম্মত সংজ্ঞা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। পরিবারের এই বহমানতা সত্ত্বেও পরিবারকে ঘিরে নানাবিধ গবেষণা, নানা প্রকার নৈতিক তত্ত্ব আলোচনা কম হয়নি-যা সমাজবিদ্যার ইতিহাসকে বারবারই সমৃদ্ধ করেছে। পরিবার সংক্রান্ত এমনই একটি নৈতিক আলোচনার বিষয় হল পারিবারিক পরিসরে সদস্যদের কাজের বন্টনগত বিষয়টির আলোচনা। আমরা জানি নারী ও পুরুষ পরিবারের ভিন্ন ভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে, পারিবারিক ক্ষেত্রে তাদের এই ভূমিকা পরস্পর বিপরীত। প্রশ্ন হল এই কর্ম বিভাজনের ভিত্তি কি? এই কর্ম বিভাজনের উৎস কি জৈবিক? যদি তা জৈবিক হয় তাহলে তা নিয়ে কোন প্রকার আলোচনা বিশেষত নৈতিক আলোচনার অবকাশ থাকে না। আর যদি এই ভূমিকার উৎসটি হয় সমাজিক বা সংস্কৃতিক তাহলে প্রশ্ন হতে পারে এই শ্রম বন্টনের যৌক্তিকতা কতখানি? পারিবারিক ক্ষেত্রে সদস্যদের এই ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা তাদের স্বাধীন আত্মবিকাশে কোনভাবে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে না তো? এই বিষয়টিকেই কেন্দ্র করে উঠে আসে প্রকৃতি বনাম প্রতিপালন সংক্রান্ত বিতর্কের বিষয়টি। যা আমাদের পারিবারিক আচরণের জৈবিকতা এবং সমাজ সংস্কৃতির প্রভাব বিষয়ে বিশেষভাবে অবগত করে। ব্যক্তি মানুষের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ক আলোচনা হোক বা সমাজের ক্ষুদ্রতম একক হিসাবে এবং সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসাবে পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানটির আলোচনাই হোক মার্কসীয় চিন্তার রীতি কে বাদ রেখে এই জাতীয় যেকোনো সমাজতাত্ত্বিক আলোচনায় যে অসম্পূর্ণ থেকে যায় তা বললে বোধ হয় খুব ভুল হয়না। এই আলোচনার পাশাপাশি যা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে তা হল নারীবাদী বীক্ষনে পরিবার এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রসঙ্গটি যা পারিবারিক ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের ভূমিকা কে ভিন্নতর আঙ্গিক থেকে দেখতে সহায়ক হয়। এই আলোচনায় আমাদের ভাবতে বাধ্য করে পরিবার যাকে আমরা মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলেই ভেবে থাকি, যা আমাদের কাছে অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়, তাকি কোন ভাবে আমাদের অজান্তেই আমাদের আত্ম বিকাশের পথে পরিপন্থী? তা কি ব্যক্তি মানুষকে তার জীবনের সম্ভাবনা গুলি সম্পর্কে অবগত করতে ব্যর্থ? যে পরিবার যে প্রতিষ্ঠান আমাদের সামাজিকীকরণের প্রথম পাঠটি দেয় সেই পরিবারই আবার আমার মধ্যেকার সম্ভাবনাকে প্রকাশ করার পথে অন্তরায় - এ জাতীয় কথা কি স্ববিরোধিতা দোষে দুষ্ট নয়? যদি সেক্ষেত্রে পরিবারের মধ্যে এমন কোন ত্রুটি গবেষণার মধ্যে দিয়ে উঠে আসেও তাহলে কি আমরা পরিবারের নতুন কোন বিকল্পকে খুঁজে নেব?
Downloads
References
১. Maclver R.M, Page Charls H, Scociety: An Introductory Analysis, The MacMillan Press Ltd. London 1971 p. 238
২. Winch R.F, The Modern Family, Holt, Rinehart and Winston 1960 p. 14
৩. Goode, J. William, The Family, PHI Learning Private Ltd. Delhi 2017 p. 1
৪. Goode, J. William, The Family, PHI Learning Private Ltd. Delhi 2017 p. 27
৫. Goode, J. William, The Family, PHI Learning Private Ltd. Delhi 2017 p. 27
৬. সেনগুপ্ত, মল্লিকা. স্ত্রীলিঙ্গ নির্মাণ, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা, পৃ. ৬৫
৭. মৈত্র. শেফালী, নৈতিকতা ও নারীবাদ : দার্শনিক প্রেক্ষিতের নানামাত্রা, নিউ এজ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃ. ২০

