নারীচেতনার আলোকে রাধিকাসুন্দরী : একটি বিশ্লেষণ
Keywords:
- আখ্যান,
- নারীচেতনাবাদ,
- রাধিকাসুন্দরী,
- উপন্যাস
Abstract
বাংলা আখ্যানকে নারীচেতনার আলোকে বিশ্লেষণ করতে গেলে অমলেন্দু চক্রবর্তীর ‘রাধিকাসুন্দরী’ নারীচেতনার আখ্যানে একটি করে উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। আখ্যানের বিচ্ছুরণ বহুমাত্রিক। তার মধ্যে একটি রশ্মি হিসাবে বর্তমান জীবনের অন্যতম লিঙ্গ সমস্যার কথা উল্লেখ করতে পারা যায়। বাংলা আখ্যান নয়, সমগ্র সাহিত্য সমাজ পরিসরে নারী-পুরুষ সমস্যা আজ অন্যান্য অনেক সমস্যার থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
“পিতৃতন্ত্রের অনুশাসনে শৃঙ্খল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা নারীর স্বকীয় সত্ত্বা-স্বরূপ-ভাষা-ইতিহাস নির্মাণের আপ্রাণ প্রয়াস।” (দাশগুপ্ত, প্রদীপণ, ‘মানবী চেতনার বিশ্বায়ন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’ অমৃতলোক, কলকাতা, ২০০৫, পৃ. ৩০)
অতি আধুনিক সাহিত্যতত্ত্বের বিনির্মাণ ঘটে গেছে নারীবাদী বিশ্লেষণের হাত ধরে। রাধিকাসুন্দরী সমাজের সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিসর থেকে উঠে এলেও, জীবনযুদ্ধে বেঁচে থাকার লড়াই ভিন্ন উপায়ে হলেও, বাঁচার তাগিদ অসম্ভব। পিতৃতন্ত্রের প্রবল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার এক ভীষণ লড়াই এর প্রতিচ্ছবি তার জীবন।
আখানের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে উল্লেখ্য—
“এক বা একাধিক কথকের দ্বারা এক বা একাধিক আখ্যান গ্রাহকের উদ্দেশ্যে এক বা একাধিক বাস্তব বা কাল্পনিক ঘটনার পুনঃকথন হল আখ্যান।” (দত্ত, সম্রাট, ‘বিশশতকের আখ্যানতত্ত্বের প্রেক্ষিতে বাংলা উপন্যাস’ বঙ্গীয় সাহিত্য সংসদ কলকাতা, ২০১০, পৃ. ৪৫)
তবে বলাবাহুল্য, নারীচেতনাবাদী আখ্যানকে হুবহু এই ফ্রেমে বিশ্লেষণ করা বেশ কঠিন। তবে, অসম্ভব নয়। এই ধরনের সংজ্ঞায় দেখা গেছে অতীত ক্রিয়ার প্রাধান্য। সুতরাং নারীবাদী আখ্যানের প্রেক্ষিতে এই সংজ্ঞার বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বলা যেতেই পারে যে, লৈঙ্গিক অসাম্য সেই সুপ্রাচীনকাল থেকে এর সৃষ্টি মূলত এর সূত্রপাত আর্য পরবর্তী যুগে। কারণ প্রাক্ আর্যযুগে আমাদের সমাজ ছিল মাতৃতান্ত্রিত। আর্যরা আসার পর সমস্ত ব্যবস্থার এক ভয়ানক পরিবর্তন আসে, শুরু হয় পিতৃতন্ত্রের আগ্রাসন। এই আগ্রাসন এই উপনিবেশিকতা থেকে নারী আজও মুক্ত হতে পারেনি। আখ্যানে এই বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন ঘটেছে। নারীচেতনাবাদ তাই আর একটিমাত্র সাহিত্যতত্ত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ‘Interdisiplinary Approach’ -র অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।
নারীচেতনাবাদী আখ্যানের বিচার বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক আখ্যানত্ব এবং আখ্যান মাধ্যম। আখ্যানের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল সংগঠনের দ্বিস্তরিকতা। আখ্যানে মূলত সময়গত সংগঠন দু'ধরনের হয়, (ক) Story time (খ) discourse time যেসময় কাহিনির মূল ঘটনাগুলি ঘটে আর একটা যে সময় আখ্যান পাঠক আখ্যান পাঠ করেন। সুতরাং নারীবাদী আখ্যান প্রেক্ষিত বহু প্রাচীন। বিশ শতকে সাহিত্য সমালোচনায় একটি অন্যতম ধারা হল আখ্যানতত্ত্ব। যদিও সুপ্রাচীনকালে প্লেটো, অ্যারিস্টটল প্রমুখ ব্যক্তিত্বগণ আখ্যানের বিভিন্ন আলোচনা করেছিলেন কিন্তু সাহিত্যের অন্যতম প্রধান শাখা হিসাবে আখ্যানের আত্মপ্রকাশ বিশ শতকে এসেই।
Downloads
References
১. দাস, বেলা, ও বিশ্বতোষ চৌধুরী ‘বাংলা আখ্যান বহুমাত্রিক পাঠ, রত্নাবলী, ২০১১, পৃ. ২৫
২. ঐ, পৃ. ৪
৩. চক্রবর্তী, অমলেন্দু, ‘রাধিকাসুন্দরী’, (১) দে’জ পাবলিশিং ১৯৮৬, পৃ. ৪৫
৪. ভট্টাচার্য, তপোধীর, ‘আখ্যানের সাতকাহণ, অমৃতলোক সাহিত্য পরিষদ, মেদিনীপুর, ২০০৫
৫. চক্রবর্তী, অমলেন্দু, ‘রাধিকাসুন্দরী’ (১) দে'জ পাবলিশিং ১৯৮৬, পৃ. ২৮৬
৬. ঐ, (২), পৃ. ১০
৭. ঐ, (২), পৃ. ৩৯৪
৮. ভট্টাচার্য, তপোধীর, ‘আখ্যানের সাতকাহণ’, অমৃতলোক সাহিত্য পরিষদ, মেদিনীপুর, ২০০৫

