মানবতার প্রতীক : রাজা রামমোহন রায়
Keywords:
- রাজা রামমোহন রায়,
- নবজাগরণ,
- নারীবাদ,
- মানবতাবাদ,
- সমাজসংস্কার
Abstract
মানুষের প্রকৃত ধর্ম হল মনুষ্যত্ব। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অর্থহীন স্বার্থকেন্দ্রিক আচারের বেড়াজালে মনুষ্যত্ব যখন বন্দিদশা যাপন করে তখন মনুষ্যত্বকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে আবির্ভাব হয় বিভিন্ন মনীষীদের। অষ্টাদশ শতকের শেষভাগ থেকে উনিশ শতকের মধ্যে ভারত সেই রকমই এক কালিমালিপ্ত অবস্থায় বিরাজ করছিল। ভারতবর্ষের আসল সত্যকে আবৃত করে রেখেছিল কিছু স্বার্থান্বেষী, রক্ষণশীল মানুষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে। আর ঠিক এমন সময়ে ভারতবর্ষের বুকে জন্মগ্রহণ করলেন সত্যের মশাল হাতে রাজা রামমোহন রায়। যেন ভারতবর্ষের এই মৃতযুগের অবসানের জন্যই তাঁর আবির্ভাব হয়েছে। সমাজে মানুষের কুসংস্কার, অন্ধতা ও রক্ষণশীলতা যখনই মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে তখনই সমাজ গভীর অন্ধকারে ডুব দেয়। আর সেই অন্ধকার থেকে সমাজকে আলোর পাড়ে টেনে তুলে আনার জন্য প্রয়োজন হয় মনীষীদের। যাঁরা মানুষকে মনুষ্যত্ব অর্জন করতে শেখাবেন ও সত্যের পথ দেখাবেন। তৎকালীন রক্ষণশীল হিন্দুসমাজ বিভিন্ন কুসংস্কারের বেড়াজালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ছিল এবং বন্দিদশা যাপন করছিল। যা রাজা রামমোহন রায়কে ভীষণভাবে চিন্তিত ও ব্যথিত করে তুলেছিল। মানুষের প্রকৃত ধর্ম যে মানবধর্ম তা মানুষ প্রায় ভুলেই গিয়েছিল। বাল্যবিবাহ, সতীদাহ প্রথা, কুলীন প্রথা, গঙ্গাসাগরে সন্তান বিসর্জন ইত্যাদি কুপ্রথাগুলি সেই সময় সমাজকে কালিমালিপ্ত করে রেখেছিল। এই সময় এই সমস্ত কুপ্রথাগুলির দ্বারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল নারীরা। সমাজ নারীদেরকে শুধুমাত্র নারী করেই রেখেছিল। মানুষ হিসাবে কখনোই স্বীকৃতি দিতে পারেনি নারীদেরকে। যার কারণে তারা নারীদেরকে বিভিন্নভাবে বঞ্চিত করার কৌশল তৈরী করেছিল। যেমন - সতীদাহ প্রথা। এই পৈশাচিক প্রথার দ্বারা নারীর বাঁচার অধিকারকে নারীর কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিল গোঁড়া হিন্দু সমাজ। এর পেছনে আসল উদ্দেশ্য ছিল সেই বিধবা নারীটিকে তার মৃত স্বামীর সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। এই পৈশাচিক প্রথার বিরুদ্ধে মানবতাবাদী রাজা রামমোহন রায় দীর্ঘ লড়াই করেছিলেন এবং সফলতাও অর্জন করেছিলেন। তাছাড়া, তিনি সমাজের অন্যান্য প্রথাগুলির বিরুদ্ধেও লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি নারী শিক্ষার জন্যও চেষ্টা করেছিলেন। কারণ, একমাত্র শিক্ষার আলোই পারে কুসংস্কারের অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে দিতে। রাজা রামমোহন রায় তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের বিভিন্ন আচার, প্রথা, রীতি-নীতির ছিলেন তীব্র বিরোধী। তিনি ব্রাহ্মধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন। নিরাকার ব্রহ্মকে তিনি স্বীকার করেছিলেন। তিনি বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থগুলি পড়ে উপলব্ধি করেছিলেন যে, মানবধর্মই হল সমস্ত ধর্মগ্রন্থের মূলভাব। রাজা রামমোহন রায়ের যুক্তি, চিন্তা, ধর্ম, দর্শন ইত্যাদি সমস্ত কিছুই ছিল মানবতাবাদ। মানবতাকেই তিনি মানুষের ধর্মরূপে স্বীকার করেছিলেন। তৎকালীন সমাজে প্রচলিত ধর্মের সংস্কারের দ্বারা তিনি সমাজের সংস্কার সাধন করতে চেয়েছিলেন। তিনিই হলেন প্রথম আধুনিক মানুষ। তিনি মানবতাকেই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতেন। তাঁর মানবতাবাদ আজও সমাজে সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর হাত ধরেই ভারতের বুকে প্রথম নবজাগরণ আসে।
Downloads
References
১. ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ, ভারত পথিক রামমোহন রায়, কলিকাতা, বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, অগ্রহায়ণ, ১৩৭৯, পৃ. ১৯
২. রথ, হরিপদ, একাদশের দর্শন শাস্ত্র, কলকাতা, রবীন্দ্র লাইব্রেরী, এপ্রিল, ২০১৪, পৃ. ৯৭
৩. bn. vikaspedia.in
৪. milansagar. com
৫. ঐ
৬. https://www.historyclassrooms.com.
৭. ঐ
৮. সামন্ত, ড: বিমলেন্দু, দর্শন পরিচয়, কলকাতা, ছায়া প্রকাশনী, জানুয়ারি, ২০১৬,পৃ. ১৭১
৯. https://www.bhangarmahavidyalaya.in.
১০. www.historyclassrooms.com.
১১. Sangbadpratidin.in , 22 May, 2022
১২. বন্দোপাধ্যায়, কল্যাণী, রাজনীতি ও নারীশক্তি ক্ষমতায়নের নব দিগন্ত, কলকাতা, প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স, জুন, ২০১৯, ISBN 81-80641-48-1,পৃ. ২৩
১৩. www.historyclass.com
১৪. চট্টোপাধ্যায়, সুহাস, বিপন্ন মানবাধিকার এই সময়ের ভাবনা, কলকাতা, প্রগতিশীল প্রকাশক, আগস্ট, ২০০৭, ISBN : 81-89846-00-0, পৃ. ৯
১৫. Jagobangla.in, May 22, 2022

