Published Paper Details:

NATH PANTHA O NATH SAHITYA: EKTI BAHUMATRIK ANWESHAN.

BRATABANI TAGORE      

নাথসাহিত্য, গোরক্ষবিজয়, গোপীচন্দ্রের গান, বৌদ্ধতন্ত্র, ধর্মঠাকুরকেন্দ্রিক সাহিত্য, নাথপন্থা, মৎস্যেন্দ্রনাথ, গোরক্ষনাথ

মধ্যযুগের বাংলার ধর্মীয় ও সাহিত্যিক ঐতিহ্যে নাথপন্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাথসাহিত্যে উল্লেখ আছে যে যোগীগুরু মৎস্যেন্দ্রনাথ ও তাঁর শিষ্য গোরক্ষনাথের মাধ্যমেই এই মতবাদ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। নাথযোগী সাধকরা নিজেদের কান ছেদন করে বলয় বা কুণ্ডল ধারণ করেন বলে তাঁদের কানফাটা যোগী নামেও অভিহিত করা হয়। নাথপন্থার দর্শন ও সাধনপদ্ধতির মধ্যে প্রাচীন ভারতীয় যোগসাধনা, তন্ত্রসাধনা, সহজিয়া বৌদ্ধধর্ম প্রভৃতির কিছু কিছু উপাদান প্রবেশ করেছে। এছাড়াও ‘নাথ’ পদবিধারী যোগীসিদ্ধদের সঙ্গে ‘পা’ পদবিধারী যোগীসিদ্ধদের কিছু সাধনতত্ত্বগত পার্থক্য আছে। নাথপন্থীদের মুখ্য উদ্দেশ্য হল বিন্দুধারণ, দেহশুদ্ধি, আত্মজ্ঞান দ্বারা কালের গতি রোধ করে এই নশ্বর দেহকে অজর, অমর করে তোলা। মরদেহকে অমর করার এই পদ্ধতি উল্টাসাধন নামে পরিচিত। উল্টাসাধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রূপে খেচরী মুদ্রার ভূমিকাও নাথপন্থায় অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।

প্রচলিত কিংবদন্তি অনুযায়ী একটা সময় পর্যন্ত নাথপন্থীরা বাংলায় যথেষ্ট সামাজিক মর্যাদা ও প্রতিপত্তির অধিকারী ছিলেন। কিন্তু সম্ভবত সেনযুগে জাতি ও বর্ণকাঠামো পুনর্গঠনের কালে নাথযোগীরা তাঁদের পূর্ব অবস্থান থেকে চ্যুত হন। জাতিবিচ্যুত যোগীরা পরবর্তীতে হিন্দু বর্ণকাঠামোয় প্রান্তিক হয়ে পড়েন। আধুনিককালে বঙ্গীয় যোগীজাতির মধ্যে যে বিভাগ ও উপবিভাগ লক্ষ করা যায় তা কখনও পেশাগত বৈচিত্র্যের উপর নির্ভরশীল আবার কখনও ভৌগোলিক অঞ্চলভিত্তিক। বাংলা নাথসাহিত্য মূলত দুটি কাহিনিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। দেবী গৌরীর অভিশাপে মীননাথের অধঃপতন ও শিষ্য গোরক্ষনাথ কর্তৃক তাঁর উদ্ধার বৃত্তান্তের উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে গোরক্ষবিজয় বা গোর্খবিজয় ও মীনচেতন কাব্য। অন্যদিকে জননী ময়নামতীর অনুরোধে মেহেরকুলের রাজা গোপীচাঁদের সিদ্ধ হাড়িপার কাছে দীক্ষা গ্রহণের কাহিনি রূপ পেয়েছে গোপীচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান, গোপীচন্দ্রের পাঁচালী, মাণিকচন্দ্র রাজার গীত প্রভৃতি ব্যালাডধর্মী কাব্যে। নাথসাহিত্যগুলি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রূপকথাসদৃশ ও অলৌকিকতার আবরণে আচ্ছাদিত। তা সত্ত্বেও যোগতত্ত্ব, যোগদর্শন ও যোগসাধনপদ্ধতির একাধিক প্রসঙ্গ এখানে প্রকাশ পেয়েছে। রূপকের আড়ালে ব্যক্ত হয়েছে উল্টাসাধনের মাধ্যমে জড় দেহকে অমর করে তোলার প্রসঙ্গও।

ঐতিহাসিকভাবে নেপাল, তিব্বত ও উত্তর-পূর্ব ভারতে নাথপন্থার সঙ্গে বৌদ্ধতন্ত্রের মিশ্রণ ঘটতে দেখা যায়। তবে সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটে নাথপন্থার সঙ্গে সবথেকে বেশি সাদৃশ্য লক্ষ করা যায় শৈবমতের। বর্তমানে নাথপন্থী জনগোষ্ঠীর একটা বড়ো অংশ নিজেদের শৈব সম্প্রদায়ভুক্তই মনে করেন। এছাড়া বাংলায় নাথসম্প্রদায়ের সঙ্গে ধর্মঠাকুরের উপাসক সম্প্রদায়ের যোগাযোগেরও একাধিক প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমান প্রবন্ধে নাথপন্থার উৎপত্তি ও বিবর্তনের ইতিহাস, তার দার্শনিক তথা তাত্ত্বিক বিস্তার ও তার সাহিত্য সংরূপ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সংক্ষেপে আলোচিত হয়েছে নাথপন্থী সাধকদের জীবনচর্যা ও সাধনপদ্ধতি সম্পর্কে। সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটে নাথসম্প্রদায়ের ইতিহাস আলোচনার পাশাপাশি বাংলার নাথযোগী বা ‘যুগী’ সম্প্রদায়ের প্রান্তিকায়ণের প্রেক্ষাপটটিও বিশ্লেষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তুলনামূলক পদ্ধতিতে নাথপন্থীদের সঙ্গে বৌদ্ধ, শৈব ও ধর্মঠাকুরের উপাসকগোষ্ঠীর সম্পর্কসূত্রগুলোও অনুসন্ধান করা হয়েছে।

Journal : TRISANGAM INTERNATIONAL REFEREED JOURNAL

Paper ID : tirj/April/22/article-3

Page No : 17 – 29

Published In :Volume 2, Issue 2, April 2022

DOI (Digital Object Identifier) : http://doi.one/10.1750/TIRJ.30393

E ISSN : 2583-0848

Creative Commons Attribution 4.0 International License