কাশীবাসিনী : পতিতা নারীর স্নেহময়ী রূপ

Authors

  • Priya Paul গবেষক, বাংলা বিভাগ আসাম বিশ্ববিদ্যালয় Author

Keywords:

  • কাশীবাসিনী,
  • মালিনী,
  • গিরীন্দ্র,
  • প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়,
  • স্ল্যাং

Abstract

পতিতা নারীর স্নেহ বাৎসল্যের অনবদ্য নির্মাণ 'কাশীবাসিনী' গল্প। গল্পের প্রধান তিনটি চরিত্র- কাশীবাসিনী, মালতী এবং তার স্বামী গিরীন্দ্রনাথ। কাহিনির প্রথমেই দেখতে পাই খগোল বাজার থেকে কিছুদূরে স্টেশনের মালগুদামের ছোটবাবু গিরীন্দ্রনাথের বাসস্হান। চাকরিসূত্রে গিরীন্দ্র মাসিক ৩ টাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। চাকরিতে যোগ দেবার পর গিরীন্দ্র বছর ধরে সঙ্গদোষে মদ্যপান করে উৎশৃংঙ্খল জীবনযাপনের মত্ত ছিল। কিন্তু বছর দুই হল মালতীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে কিছুটা ভদ্র হয়েছে। এদিকে গিরীন্দ্র চাকরিসূত্রে পুরো দিন অফিসে থাকে, তাই মালতীর নি:সঙ্গ একাকী জীবনের একমাত্র সঙ্গী ভজুয়ার মা। বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে মালতীর যোগাযোগের মাধ্যম একমাত্র দরজা ছিদ্রপথ। এমন কঠিনসর্বস্ব মালতীর নি:সঙ্গ জীবনে শীতকালে দ্বিপ্রহরে হঠাৎ তার বাড়িতে উপস্থিত হন 'বিধবাবেশিনী প্রৌঢ়া বাঙ্গালী স্ত্রীলোক'। পরের গাড়ি রাত একটায় বলে মালতী অপরিচিতা প্রৌঢ়াকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেয়। ক্রমশ তাদের মধ্যে বিভিন্ন আলাপচারিতায় ঘনিষ্ঠতা আরো নিবিড় হয়। একটি বিশেষ কারণে কাশিবাসিনীর রাতে যাওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু তাদের সংসারে অপরিচিতা কাশীবাসিনীর হঠাৎ আবির্ভাবে গিরীন্দ্র অসন্তুষ্ট। কাশীবাসিনীকে গৃহ থেকে বিতাড়িত করবার জন্য বারবার স্ত্রীকে তাগাদা দিচ্ছিল গিরীন্দ্র। বরং দেখা গেল, গিরীন্দ্রের প্রয়োজনেই এইবারও তার যাত্রা স্থগিত হল। গিরীন্দ্রের তাড়িঘাটে বদলি ও আয়ের পদোন্নতির জন্য বিদায় উপলক্ষে স্থানীয় কিছু লোকজনকে নেমন্তন্ন করেছিল। তখন কাশীবাসিনী বিশেষভাবে মালতীকে রান্নায় সাহায্য করেছিল। পরবর্তীকালে কাশীবাসিনী গিরীন্দ্রের দেনা মিটিয়ে দেবার জন্য নির্দ্বিধায় তার হাতে ত্রিশ টাকা তুলে দেন। পরদিন কাশীবাসিনীসহ গিরীন্দ্র ও মালতী তাড়িঘাটের উদ্দেশ্যে রেলযাত্রা। গিরীন্দ্র কাশীবাসিনীকে তাড়িঘাটে যেতে বললেও শেষপর্যন্ত তার জিদে সায় না দিয়ে কাশীবাসিনী দিলদার নগর থেকে একই গাড়িতে কাশীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। তাড়িঘাটে  পৌঁছে মালতীর গয়নার বাক্স না পাওয়ায় গিরীন্দ্র সন্দেহের তীর প্রথমেই কাশীবাসিনীর উপর বিদ্ধ হল। কিন্তু তখনও কাশীবাসিনীর আসল পরিচয় আমাদের সামনে উদ্ঘাটিত হয়নি। গিরীন্দ্রনাথ গয়নার বাক্সটির জন্য থানায় ডায়েরি করে। ডায়েরি করলেও প্রমোশনের খুশিতে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে তা ভুলে যায়।  কিছুদিন পর হঠাৎ কাশীবাসিনী রাশিকৃত গহনা নিয়ে মালতীর বাড়িতে উপস্হিত হয়। এসেই নিজের আসল পরিচয় সকলের সামনে উদ্ঘাটন করেন। নিজেকে মালতীর মা বলে পরিচয় দেন। অতীতে 'কুলটা' জীবন গ্রহণ করেছিল বলে সে এতদিন লজ্জায় তার মেয়ের সামনে আসেননি। বিদায়ের পূর্বে আশীর্বাদস্বরূপ নিজের বাবার দেওয়া গয়না মেয়ের হাতে সমঝে দিলেন। প্রথমে কাশীবাসিনীর আসল পরিচয় মালতী না জানলেও অজ্ঞাতসারে তাদের মধ্যে স্নেহের বন্ধন তৈরি হয়। গহনা চুরির অপবাদে গিরীন্দ্র কাশীবাসিনীকে দোষারোপ করলেও মালতীর কন্যাহৃদয় তা মানতে চায়নি। শেষে কাশীবাসিনী অপবাদ মুক্ত হয়ে নিজস্ব ভুবন যাত্রা করেন, এমনই অনুমান করা যায় গল্পের শেষে। 

Downloads

Download data is not yet available.

References

১. শিশিরকুমার দাস; ‘বাংলা ছোটগল্প’; অক্টোবর,১৯৬৩; দেজ পাবলিশিং; কলকাতা-৭৩; পৃ. ১৫১

২. অধ্যাপক জগদীশ ভট্টাচার্য (সম্পাদিত); ‘প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প’; বিংশ মুদ্রণ- বৈশাখ, ১৪২৪; প্রকাশ ভবন; ১৫, বঙ্কিম চ্যাটার্জি ষ্ট্রীট, কলকাতা-৭৩; পৃ. ৬০

৩. তদেব; পৃ. ৬৪-৬৫

৪. তদেব; পৃ. ৬২

৫. তদেব; পৃ. ৭৩

৬. তদেব; পৃ. ৭৫

৭. তদেব; পৃ. ৬১

৮. তদেব; পৃ. ৭৩

৯. তদেব; পৃ. ৭৪-৭৫

১০. তদেব; পৃ. ৭২

১১. তদেব; পৃ. ৭৫

১২. তদেব; পৃ. ৬২

১৩. তদেব; পৃ. ৬৩

১৪. তদেব; পৃ. ৬৬

১৫. তদেব; পৃ. ৬৭

১৬. তদেব; পৃ. ৭০-৭১

১৭. তদেব; পৃ. ৬০

Downloads

Published

2023-07-05

Issue

Section

Articles

How to Cite

কাশীবাসিনী : পতিতা নারীর স্নেহময়ী রূপ. (2023). TRISANGAM INTERNATIONAL REFEREED JOURNAL, 3(3), 224 – 232. https://tirj.org.in/tirj/article/view/971

Most read articles by the same author(s)