আদিবাসী সমাজ ও সংস্কৃতি
Keywords:
- উপঢৌকন : উপহার,
- থান : বেদী,
- মারাংবরু : পর্বত দেবতা,
- নাইকি : পুরোহিত,
- টোটেম : গোত্র,
- ধরমেশ : ওঁরাও দের দেবতা,
- বাপলা : বিবাহ,
- রায়বার : ঘটক,
- দুয়ার খাঁদা : আশীর্বাদ
Abstract
সভ্যতার আদিকাল থেকে ভারতের বুকে প্রবাহমান অরণ্যকেন্দ্রিক জনগোষ্ঠী আদিবাসী নামে পরিচিত। আদিবাসী সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ে পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখলাম, আধুনিক সভ্য সমাজের অর্থলোলুপ আগ্রাসনে অরণ্যকেন্দ্রিক সভ্যতা ও সংস্কৃতি আজ মৃত্যু পথে ধাবিত হচ্ছে। যেভাবে দিন দিন নদীগর্ভ খালি করে ইট ও পাথরের সমন্বয়ে বহুতল প্রাসাদ নির্মিত হচ্ছে, তার ফলস্বরূপ অরণ্য ও নদীমাতৃক সভ্যতা ধ্বংস হচ্ছে। যে কোনো জনজাতি সমাদৃত হয় সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে; কিন্তু বর্তমানে আদিবাসী সমাজ ব্যবস্থা ও সংস্কৃতি আজ বিপন্ন। সমাজ গঠনের মূল মেরুদন্ড হচ্ছে শিক্ষা আর এই শিক্ষা থেকেই আদিবাসী মানুষেরা অনেকাংশেই বঞ্চিত। বর্তমানে আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার সাথে আদিবাসী সমাজ ব্যবস্থা মিশ্রিত হওয়ায় আদিবাসী সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিলুপ্তির পথে। আদিবাসী জনগোষ্ঠী মূলত প্রকৃতি পূজারী; তাই তাঁরা অরণ্যকে দেবীরূপে পূজা করে। তাঁদের প্রধান উপাস্য দেবতা হলো মারাংবরু ও ধরমেশ। এছাড়াও বাঙ্গালীদের মতো তাঁদেরও বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে, শিশু থেকে বৃদ্ধ বৃদ্ধারা পর্যন্ত এই উৎসবে সামিল হয়। আদিবাসী সমাজের শিশুরা প্রকৃতির কোলেই বেড়ে ওঠে। তাঁদের শৈশব, কৈশোর ও যৌবন মাঠে-ঘাটে খেলাধুলার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়। যার ফলে তাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে এবং ওই সব শিশুরা হয়ে ওঠে কঠোর পরিশ্রমী। শিক্ষার হার আদিবাসী সমাজে কম হওয়ায় কারনে তাঁরা কৃষি মজুর, দিনমজুর ও চা- শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। যে কোন জনগোষ্ঠীর কাছে সমাজ গঠনের অন্যতম মাধ্যম বিবাহ ব্যবস্থা। এই বিবাহ ব্যবস্থা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তেমনি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে কমবেশি আট প্রকার বিবাহ ব্যবস্থা রয়েছে; যার দ্বারা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষেরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এবং গড়ে ওঠে এক সুশৃঙ্খল সমাজ ব্যবস্থা। শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বার্ধক্যের শেষাবস্তায় অর্থাৎ মৃত্যুর পর বেশ কিছু বিধি-নিষেধদের মধ্য দিয়ে অশৌচ পালন করে থাকে। অশৌচ পর্ব সমাপ্ত হলে,পিণ্ড দান ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পারলৌকিক ক্রিয়া সমাপ্ত হয়। পরিশেষে এই কথা বলে শেষ করতে চাই, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ভারতের প্রাচীনতম অধিবাসী হয়েও আজও তাঁরা আশ্রিতের ন্যায় জীবন যাপন করছে। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরও তাঁরা অবহেলিত এবং তাঁরা প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই আগামী দিনে আমাদের উচিত তাঁদের আপন করে নিয়ে নতুন পথের সন্ধানে এগিয়ে চলা। তবেই আগামী ভারতবর্ষ জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে।
Downloads
References
১. মাহাতো, পশুপতি প্রসাদ, ভারতের আদিবাসী ও দলিত সমাজ, পৃ. ৩১
২. তদেব, পৃ. ৩৬-৩৭
৩. তদেব, পৃ. ২৯
৪. মন্ডল, অমল কুমার, ভারতীয় আদিবাসী, পৃ. ৩৭
৫. মাহাতো, পশুপতি প্রসাদ, ভারতের আদিবাসী ও দলিত সমাজ, পৃ.৩৫
৬. হাঁসদা, রবীন্দ্রনাথ, গুহিরাম কিস্কু, তনুশ্রী হাঁসদা, (সম্পাদনা), আদিবাসী সমাজ ও সংস্কৃতি, পৃ. ৬৯
৭. তদেব, পৃ. ১৬৩-১৬৪
৮. তদেব, পৃ. ১৫
৯. তদেব, পৃ. ১৬৭

