কিশোর উপন্যাসে সত্য‚ ধর্ম ও পৌরুষের প্রতিষ্ঠা : সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের ‘ইতি তোমার মা’
Keywords:
- সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়,
- সত্যের প্রতিষ্ঠা,
- ধর্মের প্রতিষ্ঠা,
- পৌরুষের জয়,
- প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা
Abstract
‘শিশুসাহিত্যে’ সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের অবদান অনস্বীকার্য। ‘শিশুসাহিত্য’ রচনায় তিনি শুধুমাত্র নিজস্ব রচনাভঙ্গিরই আমূল পরিবর্তন ঘটাননি‚ একই সঙ্গে ছোটদের পরিবর্তনের কথাও ভেবেছেন। অনেক শিশুসাহিত্যিক ফ্যান্টাসিজাতীয় রচনা‚ রূপকথা‚ লোককথা কিংবা কল্পনায় ডানামেলা ইত্যাদি বিষয়কে কিশোর সাহিত্যের বিষয়বস্তু করে তুলেছেন। যেমন— টুনটুনি পাখি এই জগতের প্রতাপশালী রাজাকে জব্দ করতে পারে‚ শিয়াল পন্ডিতের আসনে বসতে পারে‚ এমনকি হেড অফিসের বড়বাবুর গোঁফও চুরি যেতে পারে। এই সমস্ত অবিশ্বাস্য কল্পনা শিশু নির্দ্বিধায় সত্যি বলে গ্রহণ করে। ভালো লাগলে সে আনন্দে উদ্বেল হয়ে ওঠে আবার যখন দুঃখ পায় তখন চোখে জল আসে। আবার কখনো দেখা যায়‚ ভয়ে সে মায়ের আঁচলে লুকিয়ে পড়ে। সে মনে করে এই পৃথিবীতে সব কিছুই সম্ভব। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের ‘ইতি তোমার মা’ একটি ভিন্ন স্বাদের কিশোর উপন্যাস। এখানে রূপকথা‚ লোককথা কিংবা কল্পনার কোন স্থান নেই। উপন্যাসটির মধ্যে হাসি-ঠাট্টার উপাদানও আমরা খুঁজে পাই না। ছেলেবেলা থেকেই যাতে ছোটদের জীবনে পরিবর্তন নিয়ে আসা যায়‚ তিনি সেই কথাই ভেবেছেন। শিশুরা যাতে অল্প বয়স থেকেই বড় হবার‚ মানুষ হবার প্রেরণা পায়‚ সেই দিকটার দিকেই তিনি বেশি নজর দিয়েছেন। আগুনে না পোড়ালে যেমন খাঁটি সোনা পাওয়া যায় না‚ ঠিক তেমনি দুঃখ-কষ্ট ভরা বাস্তব জগতের অভিজ্ঞতা ছাড়াও খাঁটি মানুষে পরিণত হতে পারে না। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এই সত্যটিকেই ‘ইতি তোমার মা’ কিশোর উপন্যাসে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। একটি বালক কিশোর জীবনে কিভাবে বিভিন্ন ঘাত–প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে প্রতিকূল অবস্থাকে জয় করতে শিখলো‚ সত্য ও ধর্ম কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হল‚ প্রতিকূল পরিস্থিতিকে জয় করে ব্যক্তিত্বের প্রতিষ্ঠা করতে শিখলো—তারই এক গভীর ও মর্মস্পর্শী কাহিনী ‘ইতি তোমার মা’।
Downloads
References
১. আশিস, খাস্তগীর সম্পাদনা‚ ‘শিশুশিক্ষা’‚ পুস্তক বিপণি, কলকাতা, প্রথম প্রকাশঃ নভেম্বর ১৯৮২, পৃ. ১৯
২. সঞ্জীব, চট্টোপাধ্যায়‚ ‘ইতি তোমার মা’‚ আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড‚ কলকাতা‚ প্রথম সংস্করণ বৈশাখ ১৩৯৫‚ পৃ. ৭
৩. তদেব‚পৃ. ৩০–৩১
৪. তদেব
৫. তদেব‚পৃ. ৩৪
৬. তদেব‚পৃ. ৩৫
৭. তদেব‚পৃ. ৩৮
৮. তদেব‚পৃ. ৪৫
৯. তদেব‚পৃ. ৫০
১০. তদেব‚পৃ. ১১৮–১১৯

